মসজিদ দখলে অস্ত্রবাজী! নারায়ণগঞ্জে তাবলীগ নিয়ে ফের উত্তেজনা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫৩ পিএম, ২৯ জুন ২০১৯ শনিবার

মসজিদ দখলে অস্ত্রবাজী! নারায়ণগঞ্জে তাবলীগ নিয়ে ফের উত্তেজনা

দীর্ঘদিন তাবলীগের বিবাদমান দুটি গ্রুপের কোন্দল নীরব থাকার পর আবারো নারায়ণগঞ্জে সেটা জিইয়ে উঠতে শুরু করেছে। এক পক্ষের দাবী দিল্লীর মাওলানা সাদের অনুসারী নারায়ণগঞ্জের একটি গ্রুপ এবার সরাসরি অস্ত্রবাজী শুরু করেছে। আর এতে করে ইসলামকে বিতর্কিত করা হচ্ছে। ইহুদীদের বিশেষ এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে এ নিয়ে দেখা দিয়েছে উত্তেজনা। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে সাদপন্থীদের আহূত ইজতেমা প্রশাসন বন্ধ করে দিলেও ফতেহপুর ইউনিয়নের একটি মসজিদে আয়োজন করা হয়। এদিকে শুক্রবার ২৮ জুন শহরে আবারো মিছিল করেছে আলেম ওলামারা।

জানা গেছে, ২৭ হতে ২৯ জুন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ইজতেমার আয়োজন করেছিল সাদপন্থী তাবলীগের একাংশ। কিন্তু শুরু হয় উত্তেজনা। শহরে মিছিল সমাবেশের কারণে আড়াইহাজারের প্রশাসন সেই ইজতেমা করতে দেয়নি।

এর আগে গত বছরের ১ নভেম্বর শহরের মার্কাজ মসজিদে হাতাহাতির মধ্য দিয়ে তাবলীগের বিরোধকে সামনে নিয়ে আসেন সাদ ও জোবায়ের পন্থীরা। এর পরবর্তীতে পুলিশ প্রশাসন হতে উভয় গ্রুপকে সতর্কবানী পাঠানো হলেও পরদিনই উভয় পক্ষ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া দিয়ে ১০ জনকে আহত করেন। প্রশাসন থাকা বার বার শান্ত থাকার আহবান জানালেও হেফাজত সমর্থক জোবায়ের পন্থীরা কদিন পর পরেই বিতর্ক উস্কে দেয়। সাদ পন্থীদের বিভিন্ন সময় ইসলামের শত্রু, মোনাফেক সহ বিভিন্ন আখ্যা দিয়ে মাঠে নেমে যান তারা।

ওই সতর্কবার্তাকে উপেক্ষা করে ফের ৬ নভেম্বর বিকেলে শহরের আমলাপাড়া ছোট মার্কাজ মসজিদে তাবলীগ ইস্যুতে হেফাজতে ইসলাম ও মার্কাজপন্থীদের মধ্যে তুমুল হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। ওই সময়ে দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়াতে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের শান্ত করে। দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে বলে জানা যায়।

এসব ঘটনায় ১৫ নভেম্বর দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন নারায়ণগঞ্জ তাবলীগের সাদ অনুসারীরা।

তাবলীগের এ বিরোধ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেছিলেন, নারায়ণগঞ্জে তাবলীগ জামায়াত ও আলেম উলামাদের মধ্যে চলমান বিরোধ প্রসঙ্গে মাওলনা সাদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তোমার এতো ইসলামের নতুন দর্শন দেওয়ার কি আছে? তোমারে কে লাইসেন্স দিছে? আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন, তোমরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না। তবে কেন ধর্ম নিয়ে এত কিছু। আমাদের নবী করীম (সা:) এর বিদায় হজের ভাষণ শুনলেই আমরা ধর্মের সঠিক লক্ষ্য বুঝতে পারবো। এভাবে একের পর এক পরস্পর বিরোধী বক্তব্য নারায়ণগঞ্জে বেশ উত্তপ্ত ছিল।

এদিকে শুক্রবার বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ জেলা ওলামায়ে পরিষদের সভাপতি ও ডিআইটি মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেন, নারায়ণগঞ্জের মাটি অত্যন্ত শান্ত। সাদপন্থীরা এই মাটিকে কলুষিত করার পাঁয়তারা করছে। তারা নিরীহ মানুষের উপর হামলা করার জন্য বিভিন্ন মসজিদে একত্রিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতে ব্যাগের ভিতরে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জেলা মার্কাজ মসজিদে হামলা করার চেষ্টা করেছিল। তাদেরকে আর সুযোগ দেয়া যায় না। তাদের উদ্দেশ্য খারাপ।

তিনি আরও বলেন, সাদপন্থীরা বার বার চোখ রাঙানী দিয়ে মনে করছে আব্দুল আউয়াল ভয় পেয়ে যাবে। আমার জীবন শেষ হয়েছে বাতিলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে করতে। তাদের চোখ রাঙানীতে কখনই ভয় পাবো না। সাথী ভাইদেরকে সাদপন্থীদেরকে যেখানেই পাবেন তাদেরকে ধরে প্রশাসনের হাতে তুলে দিবেন। সুতরাং সাদপন্থীদেরকে আহবান করছি ভালোপথে ফিরে আসার জন্য। অন্যথায় তাদেরকে নারায়ণগঞ্জ থেকে বিতাড়িত করা হবে। তারা যেমন আমাদের বাড়ি চিনে ঠিক তেমনিভাবে আমরাও তাদের বাড়ি চিনি।

ইসমাঈল হোসেন আব্বাসী বলেছেন, নারায়ণগঞ্জের তৌহিদী জনতা সাদপন্থীদেরকে মেনে নিবে না। তাদেরকে দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়ার জন্য আমরা প্রস্তত রয়েছি। তাদের উপযুক্ত শিক্ষা দেয়া হবে। নারায়ণগঞ্জে কোনভাবেই তাদেরকে এজতেমা করতে দেয়া হবে না।


বিভাগ : ধর্ম


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও