হিন্দু নেতারা বিভক্ত

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৫ পিএম, ২৪ আগস্ট ২০১৯ শনিবার

হিন্দু নেতারা বিভক্ত

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শুক্রবার সকালে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়েছে। ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মুখরিত ছিল শোভাযাত্রার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত।

কিন্তু এ উৎসবমুখর পরিবেশেও আয়োজকদের অনেককেই দেখা যায়নি উদ্বোধনী মঞ্চে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জেলা ও মহানগর কমিটি গঠন নিয়ে বিভক্ত শুরু হওয়ার পর এ প্রথম কোন অনুষ্ঠানের সাবেক কমিটির শীর্ষ নেতাদের কাউকে মঞ্চে কিংবা র‌্যালীর আশে পাশে দেখা যায়নি।

প্রতিবছর নারায়ণগঞ্জের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও অনেকেই দেখা গেছে ঢাকায় কৃষ্ণের শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। এতে করে স্পষ্ট করে লক্ষ্য করা গেছে হিন্দুদের মধ্যে বিভক্তি।

জানা গেছে, গত ২৭ জুলাই শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বি বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে এমপি শামীম ওসমানের উপস্থিতিতে জেলায় দীপক কুমার সাহাকে সভাপতি, শিখন সরকার শিপনকে সেক্রেটারী, মহানগরে অরুন কুমার দাশকে সভাপতি ও উত্তম কুমার সাহাকে সেক্রেটারী ঘোষণা করা হয়। যেখানে সাবেক কমিটির সভাপতি ছিলেন শংকর সাহা, সেক্রেটারী সুজন সাহা, সাংগঠনিক দিলীপ কুমার মন্ডল প্রমুখ। আর মহানগর কমিটিতে ছিলেন দ্বিপক সাহা ও শিখন সরকার শিপন।

ওই কমিটি ঘোষণার আগে থেকেই নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটি সভাপতি সেক্রেটারীরা জেলার সভাপতি শংকর সাহা, সেক্রেটারী সুজন সাহা সহ শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলতে শুরু করেন। জেলার নেতারা বিভিন্ন থানা কমিটি ও হিন্দুদের খোঁজ খবর নেয় না। যদিও মহানগর কমিটির নেতাদের বিরুদ্ধে মন্দিরের স্বর্ণ ও অর্থ আত্মসাৎ সহ মন্দিরের পবিত্রতা নষ্টের অভিযোগে মামলাও হয়েছে।

২৪ আগস্ট শুক্রবার সকাল ১০টায় শহরের ডায়মন্ড হল চত্ত্বর থেকে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শোভাযাত্রার উদ্বোধন ঘোষণা করেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান। কিন্তু এর আগে বর্তমান জেলা ও মহানগর কমিটির নেতাদের বিশৃঙ্খলায় ও ব্যর্থ নেতৃত্বে অনেক মন্দির থেকে ছোট ছোট শোভাযাত্রা বের হয়ে যায়। এমনকি আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের মূল শোভাযাত্রাও চাষাঢ়া মন্ডলপাড়া ব্রীজ ঘুরে চাষাঢ়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। এর সঙ্গে অন্যান্য শোভাযাত্রাগুলোও অংশ করে ফেলে। এছাড়াও শোভাযাত্রায় আয়োজকদের পক্ষ থেকে কোন কিছু ছিল না। এমনকি তাদের ব্যানার নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করতেও দেখা যায়নি। শামীম ওসমান উদ্বোধন ঘোষণা পরই রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে শোভাযাত্রা দর্শন করে নেতাকর্মীরা যে যার মতো চলে যান। ফাঁকা পড়ে থাকে মঞ্চ।

এদিকে শোভাযাত্রার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোথাও দেখা যায়নি সাবেক জেলা কমিটির সভাপতি শংকর সাহা, সেক্রেটারী সুজন সাহা সহ শীর্ষ নেতাদের। এছাড়াও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের অনেক সিনিয়র নেতাদেরও দেখা যায়নি মঞ্চের আশে পাশে কিংবা শোভাযাত্রায়। এখানেই শেষ নয় এবারের শোভাযাত্রায় শহরের উল্লেখ্যযোগ অনেক মন্দির থেকে তাদের নিজেস্ব শোভাযাত্রা অংশগ্রহণ করেনি। ফলে ভক্ত দর্শনাথীদের উপস্থিতিও কম ছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক কমিটির এক সিনিয়র নেতা জানান, যারা বর্তমান কমিটিতে আছেন তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ রয়েছে। হয় মন্দিরের টাকা আত্মসাৎ করেছে নয় অসহায় হিন্দুদের টাকা নিয়েছে। এছাড়াও এমপি সেলিম ওসমানের অনুদানের টাকাও তারা ঠিক মতো মন্দিরগুলোতে বিতরণ করে না। এসব নিয়ে আমরা কথা বলায় এখন আমাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রটিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে নিজেদের বদনাম করতে পারি না। তাই এখানে যাইনি।

তিনি আরো বলেন, কয়েকজন বড় বড় ব্যবসায়ী আছেন যারা এসব লোক দিয়ে তাদের অধিপত্য বিরাজ করে রেখেছেন। এখন এগুলোর নাম প্রকাশ করতে গেলে নিজেদের বদনাম। তাই নাম প্রকাশ করছি না। তবে আশা করি এসব কিছু প্রকাশ পাবে। এসব লোকদের কর্মকান্ড বের হবে।

বর্তমান জেলা ও মহানগর কমিটির নেতারা বলেন, কারা এসেছে, কারা আসে নাই সে বিষয়ে আমরা জানি না। তবে এখানে সবাই এসেছেন। এটা কারো একার না। যার ইচ্ছা হয়েছে এসেছে যার হয়নি আসেনি। আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে উৎসব শেষ করেছি এটাই সন্তুষ্ট।


বিভাগ : ধর্ম


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও