নারায়ণগঞ্জে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, দৃষ্টিনন্দন ফটকের কাজ শুরু

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৯ পিএম, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সোমবার

নারায়ণগঞ্জে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, দৃষ্টিনন্দন ফটকের কাজ শুরু

শরৎ মানে কাঁশফুল আর শিউলি ফুলের আবির্ভাব। আর এতেই জানান দেয় মহামায়ার আগমন হচ্ছে ধরায়। ভক্তবিহবলিত চিত্তে উদ্বেলিত হয়ে ভক্তদের দল ঝাঁপিয়ে পড়ে মায়ের আগমনের মঞ্চ তৈরির কর্মকাণ্ডে। এখন শুধু দিনগুনার পালা। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর মহামায়ার আগমনী বার্তা মহালয়ার মাধ্যমে দেবীপক্ষ শুরু হবে। আর সেই লক্ষ্যে পুরদমে নারায়ণগঞ্জে চলছে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি।

বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে ৩ অক্টোবর থেকে সায়ংকালে দেবীর বোধনের মধ্যে দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এবার দেবী আগমন ও গমন দুইটিই করবেন ঘোটকে (ফলম-ছত্রভঙ্গস্তÍরঙ্গমে) করবেন। ৪ অক্টোবর শুক্রবার দেবীর ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ, সায়ংকালে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস। ৫ অক্টোবর সপ্তমী পূজা আরম্ভ, পুষ্পাঞ্জলী, চন্ডিপাঠ, আরতি ও প্রসাধ বিতরণ। ৬ অক্টোবর মহাষ্টমী, কুমারী পূজা, পুষ্পাঞ্জলী, আরতি, প্রসাধ বিতরণ, সন্ধিপূজা। ৭ অক্টোবর মহানবমী, পুষ্পাঞ্জলী, আরতিও প্রসাধ বিতরণ। ৮ অক্টোবর বিজয়া দশমী, পূজা সমপন ও দপর্ণ বিসর্জন, সন্ধ্যা আরত্রিকে পর প্রতিমা বিসর্জন এবং পরে শান্তিজল গ্রহণ।

৯ সেপ্টেম্বর সোমবার সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন মন্দির ঘুরে দেখা গেছে, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে প্রতিটি মন্দির ও অস্থায়ী ম-পগুলোর ব্যাপক আয়োজন চলছে। ইতোমধ্যে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের উকিলপাড়া ও আমলাপাড়া এলাকায় পূজার দৃষ্টিনন্দন ফটক নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। যা এখনও বাঁশের ফ্রেম বাঁধা হয়ে গেছে। আর মন্দিরগুলোতে প্রতিমার দোঁআশ মাটির কাজ ইতোমধ্যে শেষ। তবে এক সঙ্গে একাধিক প্রতিমা যেসব মন্দিরগুলোতে তৈরি করা হচ্ছে সেখানে এখনও খড়, বাঁশ, রশি দিয়ে প্রতিমার আকৃতি তৈরির কাজ চলমান আছে। আবার অনেক মন্দিরগুলোতে রঙের আচর দেওয়ার অপেক্ষায় প্রতিমার রাখা হয়েছে।

চাষাঢ়া রাম কৃষ্ণ মিশন আশ্রমের প্রতিমার প্রহরী দিলীপ বলেন, আমাদের মন্দিরে দুর্গা প্রতিমার মাটির কাজ শেষে। এখন কাঁচা মাটি শুকানোর জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। মহালয়ার পর প্রতিমায় রঙ তুলির কাজ শুরু হবে।

শহরের উকিলপাড়া দুর্গামণ্ডপে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ককশিট কেটে বিভিন্ন ডিজাইন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিমাও গড়ার কাজ চলছে। একই ভাবে চলছে দেওভোগ লক্ষ্মী নারায়ণ জিউর আখাঢ়া, বলদেব জিউর আখড়া, দরিদ্র ভান্ডার কালী মন্দির, মিনাবাজার গৌর নিতাই আখড়া, বঙ্ক বিহারী মন্দির সহ বিভিন্ন মন্দিরগুলোতে।

বলদেব জিউর আখড়ার প্রতিমাকারীগর সুমন পাল বলেন, দিন দিন জিনিস পত্রের দাম বাড়ছে। সেই অনুপাতে প্রতিমার খরচও বেড়েছে। সর্বনিম্ন ৩০ হাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রতিমার দাম ধরা হচ্ছে। তবে এর মধ্যে শুধু প্রতিমার জন্য একরকম মূল আর সাজসজ্জার পর আরেক রকম মূল্য। এটা ক্রেতাদের চাহিদার উপর নির্ভর করে।

তিনি বলেন, দুর্গাপূজা এখন অনেক কমে গেছে। এক সময় কয়েক মাস জুড়ে প্রতিমা তৈরি করতে হয়। দিন রাত কাজ করেও প্রতিমার কাজ শেষ হতো না। এখন তেমন কাজ নেই। তাই এক মাস আগে থেকে প্রতিমার কাজ শুরু করেছি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে। এখন মাটির কাজ শেষ। মহালয়ার পর থেকে রঙের কাজ শুরু হবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ সম্প্রতি আইন শৃঙ্খলার সভায় বলেছেন, শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এখনই নিরাপত্তা কঠোর করা হয়েছে।


বিভাগ : ধর্ম


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও