নারায়ণগঞ্জে দেবী প্রতিমায় রঙ তুলির শেষ আঁচর

|| খবর : সময় টিভি। ০৯:৩৬ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার

নারায়ণগঞ্জে দেবী প্রতিমায় রঙ তুলির শেষ আঁচর

শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের পূজা মণ্ডপগুলোতে পুরোদমে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। দিনরাত কাজ করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। এবারের উৎসবকে সফলভাবে সম্পন্ন করতে নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন মণ্ডপের আয়োজক ও পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা। আর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত পুলিশ প্রশাসনও। খবর : সময় টিভি।

বাতাসে শরতের শুভ্র কাশফুলের দোল খাওয়া সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেয় দেবী দুর্গার আগমনের বার্তা। সামনেই হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। উৎসবকে সামনে রেখে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি পূজামণ্ডপে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত প্রতিমা শিল্পীরা। কোন কোন মণ্ডপে এখনো কাঁচামাটির প্রতিমা বানানো হচ্ছে। কোন মণ্ডপে মাটির প্রতিমার উপর সাদা প্রলেপ আবার কোন মণ্ডপে শুরু হয়েছে রঙের কাজও। শিল্পীর রং তুলির আঁচড়ে নানা বর্ণে সাজানো হচ্ছে দেবী দুর্গাকে। তবে টানা আঠারো থেকে বিশ ঘণ্টা কাজ করেও ন্যায্য পারিশ্রমিক না পাওয়ায় প্রতিমা শিল্পীরা হতাশ।

পূজা উপলক্ষে মণ্ডপগুলো সাজানোর কাজসহ শহরের বিভিন্ন সড়কে চলছে বড় বড় তোরণ নির্মাণের কাজ। উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিটি পরিবারে। পূজার কেনাকাটাসহ নানা প্রস্তুতি নিচ্ছেন নারী-পুরুষ সবাই।

দুর্গাপূজা উৎসবকে শান্তিপূর্ণভাবে উৎযাপন করতে মণ্ডপগুলোকে সিসি ক্যামেরায় সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণসহ কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবক কাজ করবেন বলে জানান আয়োজক ও পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন বলেন, প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি মানুষ যাতে আসার সময় ছিনতাইকারীর কবলে না পড়ে এবং দর্শনার্থীরা আসার সময় যাতে কোনো দুর্ঘটনায় না পড়েন।

শারদীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, মানুষের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকবে।

বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে আগামী ৩ অক্টোবর সারা দেশের মতো নারায়ণগঞ্জে শারদীয় দুর্গাপূজা। আর পূজাকে ঘীরে কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা ও পুলিশ প্রশাসন।

জানা গেছে, ৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার থেকে সায়ংকালে দেবীর বোধনের মধ্যে দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এবার দেবী আগমন ও গমন দুইটিই করবেন ঘোটকে (ফলম-ছত্রভঙ্গস্তÍরঙ্গমে) করবেন। ৪ অক্টোবর শুক্রবার দেবীর ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ, সায়ংকালে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস। ৫ অক্টোবর সপ্তমী পূজা আরম্ভ, পুষ্পাঞ্জলী, চন্ডিপাঠ, আরতি ও প্রসাধ বিতরণ। ৬ অক্টোবর মহাষ্টমী, কুমারী পূজা, পুষ্পাঞ্জলী, আরতি, প্রসাধ বিতরণ, সন্ধিপূজা। ৭ অক্টোবর মহানবমী, পুষ্পাঞ্জলী, আরতিও প্রসাধ বিতরণ। ৮ অক্টোবর বিজয়া দশমী, পূজা সমপন ও দপর্ণ বিসর্জন, সন্ধ্যা আরত্রিকে পর প্রতিমা বিসর্জন এবং পরে শান্তিজল গ্রহণ। রাত ৮টা থেকে শহরের বিভিন্ন মন্দির থেকে বের করা হবে বিজয়া শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি  চাষাঢ়া গোল চত্ত্বর, গলাচিপা মোড়, নারায়ণগঞ্জ ক্লাব মার্কেটের সামনে হয়ে ২নং রেল গেট হয় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে গিয়ে শেষ হবে।’

নারায়ণগঞ্জে ২০৫ মণ্ডপে দুর্গাপূজা
পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা জানান, পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলার হিসাব অনুযায়ী এবার নারায়ণগঞ্জ জেলার ৭টি থানা এলাকায় ২০৫টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে যা গত বছরের তুলনায় ১টি বেশি। নারায়ণগঞ্জ সদর থানা এলাকায় ৩৯টি, ফতুল্লায় ২৬টি, সিদ্ধিরগঞ্জে ৭টি,  বন্দরে ২৬টি, সোনারগাঁয়ে ৩১টি, আড়াইহাজারে ৩১টি ও রূপগঞ্জে ৪৮টি। নেতাদের দাবি যার মধ্যে ১০ থেকে ১২ মন্ডপ ঝুঁকিপূর্ণ।


বিভাগ : ধর্ম


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও