জাগরণ পুঁথি পাঠে বলদেব জিউর পূজা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫১ পিএম, ১ অক্টোবর ২০১৯ মঙ্গলবার

জাগরণ পুঁথি পাঠে বলদেব জিউর পূজা

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের মণ্ডপগুলোর মধ্যে দর্শনার্থীদের আকর্ষণে প্রতিযোগিতার কমতি থাকে না। আলোকসজ্জা থেকে শুরু করে সাউন্ড, প্রতিমা সহ বিভিন্ন কিছুর আয়োজন করা হয়। তবে এতো কিছুর ভীড়ে হারিয়ে যায় পূজার ধর্মীয় মূল সংস্কৃতি। আর ওই সংস্কৃতিক পুনরায় জাগ্রত করতে দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কয়েকটি সনাতনী সংগঠন। তবে এ সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী ধর্মীয় সংস্কৃতিতে যুক্ত করছেন বলদেব জিউর আখড়া ও শিব মন্দির দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সদস্যরা। আর তা হলো, প্রতিদিন পূজান্তে শ্রী শ্রী চন্ডীপাঠ ও জাগরণ পুঁথি পাঠ।

সম্প্রতি আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে নিউজ নারায়ণগঞ্জ প্রতিবেদককে কথা গুলো বলেন বলদেব জিউর আখড়া ও শিব মন্দিরের দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি জয় কে রায় চৌধুরী বাপ্পী।

তিনি বলেন, মন্দিরের সংস্কার কাজ দীর্ঘদিন ধরেই চলমান আছে। মন্দির কমিটি ও পূজা উদযাপন কমিটি এবার এক হয়েছে মন্দিরের উন্নয়ন কাজ নিয়ে। ফলে অন্যান্য বারের মতো এবার তেমন কোন আকর্ষণই নেই। কিন্তু দুর্গাপূজার কিছু ধর্মীয় অনুষ্ঠান আমাদের এখানে হতো না তাই, এবার আমরা নতুন করে যুক্ত করেছি চন্ডীপাঠ ও জাগরণ পুঁথি পাঠ।

বাপ্পী বলেন, মন্দিরের সামনে স্থায়ী ভাবে যে ফটক তৈরি করা হয়েছে জগবন্ধু বলরাম মধ্যে রেখে ডানে বামে লক্ষ্মীনারায়ণ ও মহাদেব। তারই মধ্যে আলোকসজ্জা করা হবে। এছাড়া ফটকের যা আছে তাই থাকবে।

তিনি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, সবাই প্রতিমা বির্সজন করে কিন্তু আমরা বিসর্জনের পূজা করলেও প্রতিমা মন্দিরে রাখা হয়। বছর জুড়ে ওই প্রতিমায় পূজা অর্চনা হয়। সেহেতু ইচ্ছা থাকলেও আমরা তেমন কোন কিছুই করতে পারি না। তবে প্রতিবারের মতো শাড়ির প্রতিমা হবে। আর তাতেই থাকবে দেশী সংস্কৃতিতে শাড়ি পড়ানোর নতুনত্ব। এছাড়াও যেহেতু এক বছর মণ্ডপে দুর্গাপ্রতিমা থাকে সেইজন মণ্ডপের ভিতরের কারুকাজেও দৃষ্টিনন্দন ও টেকশই করা হচ্ছে। আশা করি পূজার আগেই সব কাজ সুন্দর ভাবে শেষে হবে।

পূজার বাজেট সম্পর্কে বাপ্পী বলেন, এবছর পূজার ব্যয় খুব কম। মন্দিরের সংস্কার কাজের জন্যই এবার এমনটা হয়েছে। তবে প্রসাদ বিতরণ, মায়ের প্রতিমাতে সব থেকে বেশি টাকা ব্যয় করা হয়ছে। পূজার ৩দিন মন্দিরের পুষ্পাঞ্জলী, প্রসাদ বিতরণ ও দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ দ্বারের আলোকসজ্জা করা হবে। দেবী বিসর্জনের পরিবর্তে সিধুর খেলা হবে। মায়ের আশীর্বাদ স্বরূপ একজন নারী আরেক জন নারীর মাথায় সিধুর দিয়ে দেয়।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কোন শংকা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে বাপ্পী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা পূজা করে আসছি। কখনো কোন ঘটনা ঘটেনি। আশা করছি আগামীতেও কোন কিছুই হবে না। তারপরও দুষ্কৃতিকারীরা এসব কিছু মানে না। আমরা সর্তক থাকবো। এর আগে নিতাইগঞ্জ মোড়ে অনেকগুলো সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। প্রয়োজনে এবার আরো কিছু বাড়ানো হবে। তাছাড়া নিরাপত্তার জন্য স্বেচ্ছাসেবক সহ পুলিশ সকলই থাকবে মন্দিরে। আশা করছি শান্তিপূর্ণ ভাবেই পূজা শেষ হবে।


বিভাগ : ধর্ম


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও