চাষাঢ়া পূজা মণ্ডপে ‘নৌকা তোরণ’ প্রধান আকর্ষণ প্রবীণ নেতা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১৭ পিএম, ৩ অক্টোবর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

চাষাঢ়া পূজা মণ্ডপে ‘নৌকা তোরণ’ প্রধান আকর্ষণ প্রবীণ নেতা

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় চলছে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে পূজার তোরণ তৈরি কাজও। এ পূজা মণ্ডপের প্রধান আকর্ষণই থাকে নৌকার তোরণ। চার পায়ের তোরণের মধ্যে নৌকা তৈরি করা হয়। আর যিনি এ আয়োজনটা করেন তিনি হলেন মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধকালীন কমান্ডার গোপীনাথ দাস। তবে নৌকার চেয়ে এবারের মূল আকর্ষণ তিনিই। কারণ তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর পূজাকে ঘিরে কর্মচাঞ্চল্যতা বেড়েছে। আর তাই পূজার আমেজ শুরু হয়েছে চাষাঢ়া পূজামণ্ডপে। আর তাই প্রতিবারের মতো এবারও আধুনিকতায় না গিয়ে স্বাত্বিক ভাবেই দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সরেজমিনে চাষাঢ়া মার্ক টাওয়ার পাশে পূজা মণ্ডপে গিয়ে দেখা গেছে, ইতোমধ্যে মণ্ডপ তৈরি কাজ শেষ। পূজা মণ্ডপে প্রতিমাও স্থাপনা করা হয়েছে। বৃষ্টির সম্ভবনাকে ঘরে ত্রিপালের বদলে টিনশেড করা হয়েছে। তবে এমন পূজার মণ্ডপও যেন নিরব নিস্তব্দ। প্রতিবারে মতো হৈহুলুর নেই।

মণ্ডপের পাশে পুড়ির দোকানদার সজিব নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, চাচা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ তাই মণ্ডপ এতটা নিরব মনে হচ্ছে। কিন্তু প্রতিবার চাচার গলার আওয়াজ ও মণ্ডপে শ্রমিকদের কাজে সব সময় সরগরম থাকতো।

মোবাইল দোকানের পরিচালক সুব্রত সাহা নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, আবারও সরগরম হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন অসুস্থ হয়ে বাসা থেকে বের হতে পারেনি। কিন্তু পূজার আনন্দে এখন অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছে। বুধবার দুর্গাপ্রতিমার আনতেও গিয়েছেন। এ নিরব পরিবেশ আর থাকবে না। ওই যেই এ পূজামণ্ডপের প্রাণ।

তিনি বলেন, এক সময়ের হিন্দু নেতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কাকা (গোপী নাথ দাস)। হিন্দুদের যে কোন সমস্যায় নিজ থেকে এগিয়ে যেতেন। সেটা দিন কিংবা রাত হোক। পূজা থেকে শুরু করে যেকোন সমস্যায় কাকা সব সময় হাজির থাকতো। কিন্তু তিনি অসুস্থ হওয়ার পর থেকেই যেন সব কিছু শেষ হয়ে গেছে। এজন্য তিনিও খুব মন খারাপ করে থাকেন। আর সেইজন্যই এবার দুর্গাপূজার আয়োজন বাদ যায়নি।

গোপী নাথ দাসের ছেলে সঞ্জয় দাস নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, বাবা এখন আগে থেকে অনেক সুস্থ। আগে ৩ থেকে ৪জন ধরে হাঁটাতে হতো কিন্তু এখন একজনই সঙ্গে থাকলে হাঁটতে পারেন। কথা বলতে পারেন। আশা করছি নারায়ণগঞ্জের সকলের আর্শিবাদে বাবা আবারও সুস্থ হয়ে উঠবেন।

তিনি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, বাবা আরো আগেই আরো সুস্থ হয়ে যেতো। কিন্তু তিনি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। কিন্তু দুর্গাপূজা আগে থেকেই তিনি আবারও মনে জোর পেয়েছেন। তিনি বলছেন পূজা করতে। আর তাকে মানসিক ভাবে শক্তি যোগাতে আমরাও পূজার আয়োজন করেছি। বাবা যেভাবে স্বাত্ত্বিক দুর্গাপূজা করতো ঠিক সেভাই। আর জন্য তিনি প্রতিদিন নিয়ম খোঁজ খবরও রাখছেন। পূজার মণ্ডপের কি অবস্থা কেমন হয়েছে। এসব কিছুই।

তিনি বলেন, বাবা মহানগর আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি। আর আওয়ামীলীগের রাজনীতির প্রতি ভালোবাসা থেকেই তোরণের উপর নৌকার তৈরি করা। যেটা তিনি করেছিলেন মূলত আমরা তাকে খুশি করতে ঠিক সেভাবেই সব কিছু করেছি। আর এসব কিছু দেখতে প্রতিদিনই নিচে আসতে চায়। কিন্তু অসুস্থ আর একা নিচে এসে কি করবে সেজন্য আমরা দেই না। তবে ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত প্রতিদিন নিচে রাখবো। আশা দুর্গা মায়ের কৃপায় ও মানুষের ভালোবাসায় তিনি আরো সুস্থ হয়ে উঠবেন।

সঞ্জয় দাস আরো বলেন, এমপি সেলিম ওসমান ও এমপি শামীম ওসমান দুই কাকাই সব সময় খোঁজ খবর রাখেন। প্রায় মোবাইলে খোঁজ খবর নেন। এছাড়াও হিন্দু নেতারাও বাড়িতে আসেন, বাবার সঙ্গে কথা বলেন। এমনিতে কোন সমস্যা নেই।

গোপী নাথ দাসের ছোট ভাই মদন মোহন দাস বলেন, আমার ভাই দীর্ঘদিন ধরে স্বাত্বিক দুর্গাপূজার জন্য আন্দোলন করেছেন। সেই আন্দোলনের ধারায় তিনি নিজে স্বাত্বিক দুর্গাপূজা করতেন। চ-ীপাঠ, জাগরণ পুথিঁ পাঠ, পুষ্পাঞ্জলী, ধর্মীয় সঙ্গীত পরিবেশন সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতেন। কখনো বাজিক আলোকসজ্জা, উচ্চ শব্দের গান বাজানো সহ যে সব কিছু ধর্মীয় বিধানে নেই এসব আয়োজন করা হয় না। আমাদের পূজার ব্যয় ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা। যার মধ্যে প্রধান অংশ ব্যয় হয় প্রতিমা তৈরিতে। আর পূজা, প্রসাদ বিতরণ অন্যান্য কিছুতে ব্যয় হয়। এবার ভাই অসুস্থ তারপরও আমরা সেটা দিকনির্দেশনা অনুসরণ করছি। কারণ তিনিই আমাদের পূজার এবারের মূল আকর্ষণ। মায়ের কৃপায় ওনি সুস্থ হোক এ প্রর্থনা করি।


বিভাগ : ধর্ম


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও