পূজামন্ডপের কারুকাজে ঢাকাবাসীকে চমক দেখিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের শিল্পী

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:১৩ পিএম, ৭ অক্টোবর ২০১৯ সোমবার

পূজামন্ডপের কারুকাজে ঢাকাবাসীকে চমক দেখিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের শিল্পী

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা আর সেই ঢাকায় শারদীয় দুর্গাপূজা মণ্ডপে কারুশিল্পীর কাজ করে রাজধানীবাসীকে চমক দেখিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের চারুকারুকর স্বপন দাস। ইতোমধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছেন আয়োজক ও অতিথিদের। তাদের দাবি, এ কারুশিল্পীদের সম্মান ও তারা যেন হারিয়ে না যায় সেইজন্য সরকারি ভাবে পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানিয়েছেন।

রাজধানীর বনানী মাঠ এলাকায় শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করে গুলশান বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন। আর ওই দৃষ্টিনন্দন পূজামণ্ডপটির ককশিট দিয়ে কারুকাজের প্রধান ছিলেন নারায়ণগঞ্জের স্বপন দাস। যিনি শহরের ডিআইটি এলাকায় ‘চিত্রকর’ আর্ট ও প্রিন্টিংয়ের পরিচালক।

কারুশিল্পী স্বপন দাস হলেন কুমিল্লা দাউদকান্দি এলাকার দীনেশ দাসের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ লক্ষ্মী নারায়ণ আখড়া এলাকায় বসবাস করছেন।

রোববার রাতে সরেজমিনে গুলশান বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের দুর্গাপূজা মণ্ডপে গিয়ে দেখা যায়, আমেরিকা, ভারত ও বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি মন্দিরের অংশ বিশেষ এর সংমিশ্রণে তৈরি করা হয়েছে। ককশিটের উপর কারুকাজ করে এ মণ্ডপটি তৈরি করা হয়। আর মণ্ডপটির চূড়ায় রাখা হয়েছে রথ। আর মণ্ডপটি দিনে ও রাতে ফুটিয়ে তোলার জন্য রঙ ব্যবহার করা হয়েছে। তাছাড়া মণ্ডপটি করা হয়েছে ১২০ থেকে ১৩০ শতাংশ জায়গার উপর। এছাড়াও বাইরে সাংস্কৃতিক মঞ্চ, অভ্যর্থনা মঞ্চ, স্টল সহ আরো কিছু তৈরি করা হয়েছে।

স্বপন দাস বলেন, প্রায় দেড় মাস ধরে মণ্ডপটি তৈরিতে ২০০ শ্রমিক কাজ করেছে। এ মণ্ডপ তৈরি করতে আয়োজকদের বাজেট ছিল আনলিমিট। তারা চেয়েছে যত সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন করা যায়। আমরাও সেই ভাবে কাজ করেছি। এখন ভক্ত দর্শনার্থী যখন মণ্ডপ দেখে জিজ্ঞাসা করেন কে এতো সুন্দর করেছে তখনই আমাদের সার্থকতা।

তিনি বলেন, ২০১৪ সাল থেকে গুলশান বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের দুর্গাপূজা মণ্ডপে কারুশিল্পী হিসেবে কাজ করছি। আর প্রতিবারই কোন কোন ব্যতিক্রম করতে হয় আয়োজকদের চাহিদা অনুযায়ী। তবে এবার এ পূজার আয়োজকদের ১২ বছর পূর্তি ছিল। এজন্য তারা অন্যবারের চেয়ে ব্যতিক্রম কিছু প্রত্যাশা করেন। তাই এবার ডিজাইন দেখানোর পর তারা কোন কিছু মন্তব্য করেননি বরং উৎসাহ দিয়েছেন। এরপর থেকেই আমরা কাজ করা শুরু করি। কাজ করার সময় ২ থেকে ৩ জন সহযোগীও ছিলেন।

ঢাকার বাসিন্দা সুভাষ সাহা বলেন, দৃষ্টিনন্দন একটি পূজা মণ্ডপ হয়েছে। ঢাকার মধ্যে যেসব পূজামণ্ডপ আছে তার মধ্যে অন্যতম গুলশান বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের মন্ডপ। যিনি চারুকারুর কাজ করেছেন সেটা প্রশংসনীয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখনও এমন দক্ষ কারুশিল্পী আছে যারা এমন সুন্দর কাজ করে। তাদের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। তারা যেন হারিয়ে না যায় সেই উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।


বিভাগ : ধর্ম


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও