নারায়ণগঞ্জে বড় দিনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন, কঠোর নিরাপত্তা

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৩:৫৪ পিএম, ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার

নারায়ণগঞ্জে বড় দিনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন, কঠোর নিরাপত্তা

নারায়ণগঞ্জে প্রতি বছরের মত এবারো খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান বড়দিন পালনের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। উৎসবকে ঘিরে সাজানো হয়েছে শহরের দুটি গীর্জা ও নেয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও।

মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা থেকে শুরু হবে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধু সড়কের সাধু পৌলের গির্জা ও সিরাজউদ্দৌলা সড়কের ব্যাপ্টিস্ট চার্চকে সাজানো হচ্ছে বর্ণিল সাজে।

সকালে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের সাধু পৌলের গীর্জা ঘুরে দেখা গেছে উৎসবকে ঘিরে সাজসজ্জায় ব্যস্ত রয়েছেন সেখানকার দায়িত্বরত সকলেই। ইতোমধ্যে সাজানো হয়েছে গোশালা, ক্রিসমাস ট্রি (আলোকসজ্জিত গাছ), প্রধান ফটকের বাইরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তোরণ, করা হয়েছে রঙ, প্রার্থনা রুমও সাজানো হয়েছে নানা সাজে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহর ছাড়াও ফতুল্লার সস্তাপুর, পাগলা, দেলপাড়া, বন্দরের লক্ষ্মণখোলা, সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড, সদর থানার গোগনগর এলাকায় খ্রিস্টানদের বাস। তাদের বেশির ভাগই চাকুরিজীবী। বিশেষ করে গার্মেন্টস, বায়িং হাউস, চায়নিজ রেস্টুরেন্ট ও বিউটি পার্লারে কর্মরত। নারায়ণগঞ্জে ক্যাথলিক ও ব্যাপটিস্ট ছাড়াও খ্রিস্টানদের কয়েকটি ক্ষুদ্র সম্প্রদায়ের লোকও রয়েছে। তাদের জন্য নারায়ণগঞ্জে কোনো চার্চ নেই। তারা বাসায় কিংবা অফিসে অথবা চায়নিজ রেস্টুরেন্টে বড়দিন উপলক্ষে অস্থায়ী গির্জা তৈরি ও ক্রিসমাস-ট্রি সাজিয়ে থাকে।

সাধু পৌলের গীর্জার সাধারণ সম্পাদক পিন্টু পলিকাপ পিউরিফিকেশন বলেন, ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশন থেকে আমাদের রঙয়ের কাজ করে দেয়া হয়েছে। আজ (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬ টায় প্রার্থনার মধ্যদিয়ে আমাদের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। বড়দিনের দিন সকাল সাড়ে ৮ টায় প্রার্থনা হবে, সাড়ে ১০টায় আমরা অতিথিদের নিয়ে কেক কাটবো। মুলত সকালে প্রার্থনা অনুষ্ঠানের পর সবাই বাইরে উৎসব করে, আমাদের এখানে পর্যাপ্ত যায়গা নেই বলে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টগুলো সাজিয়ে নানা আয়োজন করা হয়।

তিনি বলেন, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী দুটি গোত্রের (ক্যাথলিক ও ব্যাপ্টিস্ট) জন্য নারায়ণগঞ্জ শহরে দুটি গির্জা রয়েছে। ক্যাথলিকদের জন্য শহরের ১৩৫ বঙ্গবন্ধু সড়কে সাধু পৌলের গির্জা ও ব্যাপ্টিস্টদের জন্য সিরাজউদ্দৌলা সড়কে ব্যাপ্টিস্ট চার্চ। ব্যাপ্টিস্ট চার্চটি ১৮৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত। চার্চ প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে রেভারেন্ড রামচরণ ঘোষের নাম বিশেষভাবে উল্লেযোগ্য। এ চার্চে ধর্মীয় আচার ছাড়াও বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজকর্মও হয়ে থাকে। এগুলোর মধ্যে চিকিৎসা সেবা, মাতৃসদন, শিক্ষাদান উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে সাধু পৌলের গির্জা ১৯৪৯ সালে ইতালিয়ান ফাদার জন সে ক্যাথলিক গির্জা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি গির্জার নাম দেন সাধু পৌলের গির্জা।

ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সম্পাদক অরবিন্দ হালদার জানান, সকাল সাড়ে ১০ টায় প্রার্থনার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে গীর্জায়। দুপুর ১টায় কেক কাটার মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি হবে।

নাসিকের কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলার দুটি গীর্জাই আমার ওয়ার্ডে অবস্থিত। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রতি বছরের মত আলোকসজ্জা ও রঙয়ের কাজ করে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুটি শুভেচ্ছা তোরণ নির্মান করে দেয়া হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক (ডিআইও ২) শফিউল আজম জানান, ইতোমধ্যে দুটি গীর্জায় পুলিশ নিরাপত্তা দিচ্ছে, রয়েছে সাদা পোশাকে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারিও। বড় দিনকে ঘিরে পুরো শহরেও নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। দিনটি উপলক্ষ্যে শহরের আলাদা ৫টি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে, উৎসবকে শান্তিপূর্ণ করতে জেলা পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে।


বিভাগ : ধর্ম


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও