করোনা মোকাবেলায় ইবাদতের আহবান আলেম ওলামাদের

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪১ পিএম, ১৯ মার্চ ২০২০ বৃহস্পতিবার

করোনা মোকাবেলায় ইবাদতের আহবান আলেম ওলামাদের

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস যখন অনেকের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে, কেউ কেউ আবার আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে যন্ত্রণাদায়ক মুহূর্ত পার করছে। তবে সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হচ্ছে, সংক্রামনের বিষয়টি যা সবাইকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে। করোনার মত মহামারি বাংলাদেশেরও হানা দিয়েছে। মহামারি মানে সৃষ্টিকর্তার গজব তা এখন অনেকেই অকপটে বিশ্বাস করছেন। এরুপ পরিস্থিতিতে ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী কি করণীয় আছে তা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। যদিও ইসলামি চিন্তাবিদ ও মাওলানারা বলছেন ভিন্ন কথা। সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা চাওয়া সহ ইবাদাত বন্দেগীতে মশগুল থাকার কথা বলা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে করোনা আক্রান্তের ২০ জনের মধ্যে ১ জন মৃত্যুবরণ করেছে। নারায়ণগঞ্জের অনেকে আক্রান্ত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জে ক্রমশ করোনা আক্রান্ত সন্দেহে হোম কোয়ারেন্টাইনের সংখ্যা বাড়ছে।

করোনার মত মহামারি যখন নারায়ণগঞ্জে হানা পড়েছে তখন চারদিকে হুলূস্থ’ূল কান্ড দেখা দিয়েছে। করোনা আতঙ্কে বাজারগুলোতে প্রচন্ড ভিড় দেখা দিচ্ছে। কারণ যানবাহন ও দোকানপাট বন্ধ হয়ে যেতে পারে এই আশঙ্কায় বাজারে ভিড় বেড়েছে। এর ফলে লাফিয়ে লাফিয়ে নিত্যপণ্যের দামও বেড়ে চলেছে। আর মানুষজনের মধ্যে আতঙ্ক যেন ক্রমশ বাড়ছে। এই অবস্থায় জনগণ অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এর ফলে ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী মহামারির এরুপ পরিস্থিতিতে কি করণীয় রয়েছে সে বিষয়ে কয়েকজন মাওলানা ও ইসলামি চিন্তাবিদের সাথে কথা হয়।

নারায়ণগঞ্জ হেফাজতে ইসলামের সমন্বয়ক মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, করোনা মূলত একটি গজব। যখন অন্যায় অপরাধ বেশি হয় তখন এরুপ গজব দেখা দেয়। তাই বেশি করে আল্লাহ পাকের কাছে পানাহ চাওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। বেশি বেশি করে ইবাদত বন্দেগী করতে হবে। আর করোনাভাইরাস ও মহামারি থেকে বাঁচার দোয়া আছে তা বেশি বেশি করে পড়তে হবে।

তিনিা আরো বলেন, জুম্মার নামাজের জমায়েত নিয়ে কোন ধরনের শঙ্কা বোধ করছিনা। কারণ ইসলামী ফাউন্ডেশন থেকে একটি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যেখানে জ্বর-কাশিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মসজিদে না যাওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

শহরের দেওভোগ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা হারুন অর রশিদ নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, নবীজীর দুইটা হাদিস আছে। মহামারি আক্রান্ত এলাকার কেউ বাইরে যাবেনা আর বাইরের কেউ আক্রান্ত এলাকায় প্রবেশ করবেনা। এই দুটোর সমন্বয় করে মানুষ চলবে। তবে আমরা ছোয়াচে বলতে যা বুঝি ইসলামে তেমন কিছু নাই। হাদিসে পরিষ্কার ভাষায় বলা আছে, ছোয়াচে বলতে কিছু নেই। যা কিছু হয় এটা আল্লাহর তরফ থেকে হয়। এবং কারো বিপদ আপদ আসলে তা আল্লার নির্দেশেই আসে।

তিনি আরো বলেন, ছোয়াচে কোন রোগ যেহেতু নেই সেহেতু জুমার নামাজের জামাত নিয়ে কোন শঙ্কা নেই। তাছাড়া মহামারি হলে বেশি করে ইবাদত বন্দেগী করতে হবে। আর মসজিদে মানুষজন সবচেয়ে বেশি ইবাদত করে, কান্নাকাটি করে, আল্লাহর কাছে পানাহ চায়। তাই সবাইরে আরো বেশি করে মসুজদি মুখি হওয়া উচিত।

সবুজবাগ মহব্বত আলী জামে মসজিদের খতিব ও ইমাম মাওলানা রহমত উল্লাহ বুখারী নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ওলামা পরিষদের নেতৃবৃন্দরা ডিআইটি মসজিদের খতিব আব্দুল আউয়াল সাহেবের সাথে একটা মিটিংয়ে বসছিল। করোনা যেহেতু একটি মহামারি ভাইরাস তাই জুম্মার সময়ে আমরা আল্লাহ পাকের কাছে দোয়া করবো। তাছাড়া সবাই যেন আরো নামাজ সহ ইবাদত বন্দেগীমুখি হয়। আল্লাহর কাছে সবাই যেন কান্নাকাটি করে পানাহ চায় সেজন্য আমরা সবাইকে অবহিত করবো। কারণ এই ইবাদত বন্দেগী করা ছাড়া আমাদের আর কোন উপায় নেই।

মসজিদে গণজমায়েতের বিষয়ে তিনি বলেন, শঙ্কা তো রয়েছে। যেহেতু বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভীরু তাই সবাই মসজিদ মুখি হবে। আর আল্লাহকে ডাকা ছাড়া কোন উপায় নেই। তবে আমাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা উচিত।


বিভাগ : ধর্ম


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও