এবারও আয়োজিত হচ্ছে না নারায়ণগঞ্জে বৃহৎ ঈদ জামাত

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৫৭ পিএম, ২৮ জুলাই ২০২০ মঙ্গলবার

এবারও আয়োজিত হচ্ছে না নারায়ণগঞ্জে বৃহৎ ঈদ জামাত

ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহার বাকি মাত্র ৫ দিন। তবে প্রাণঘতি করোনাভাইরাসের কারণে বদলে গেছে চিরাচরিত ঈদ উৎসবের আয়োজন। পরিবর্তন এসেছে ঈদের অন্যতম অংশ ঈদের নামাজের জামাত আয়োজনেও। ধর্মমন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী এবারও খোলা জায়গায় নয়, ঈদের নামাজের জামাত আয়োজন করতে হবে মসজিদে। ফলে গত ঈদুল ফিতরের মত এবারও বৃহত্তর ঈদ জামাত থেকে বঞ্চিত হবে নারায়ণগঞ্জবাসী।

জানা যায়, ২০১৮ সালে ঈদুল আজহার আগে নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রায় ৭’শতাধিক আলেম ওলামার সঙ্গে বৈঠক করে নারায়ণগঞ্জে বৃহৎ ঈদ জামাতের ঘোষণা দিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান। সেই ঘোষণার পর নারায়ণগঞ্জবাসীর ইতিহাসে প্রথমবারের মত লক্ষাধিক মুসল্লির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজের জামাত।

এর ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালেও নতুনত্ব এনে চিরাচরিত বাঁশের প্যান্ডেলের পরিবর্তে মদিনার আদলে আধুনিক প্রযুক্তির তাবু টাঙিয়ে আয়োজন করা হয় বৃহত্তর ঈদ জামাত। যেখানে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এসে ঈদের জামাতে অংশ নেয়।

তবে প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের কারণে মানুষের জীবনযাপন ধারা ওলটপালট হয়ে গেছে। গত ৮ মার্চ নারায়ণগঞ্জে প্রথম করোনার অস্তিত্ব পাওয়ায় ঈদুল ফিতরে নারায়ণগঞ্জে বৃহত্তর ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়নি। দেশ থেকে করোনা নির্মূল না হওয়ায় এবার ঈদুল আজহাতেও বৃহত্তর ঈদ জামাত আয়োজন হচ্ছে না।

গত ১২ জুলাই ভার্চুয়ালে আয়োজিত এক সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক জামাত অনুষ্ঠানের বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক ১৪ শর্তে ঈদুল আজহার নামাজের জামাত মসজিদে আদায়ের জন্য আহ্বান জানানো হয়। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘করোনাভাইরাসের কারণে উন্মুক্ত স্থানে বড় পরিসরে ঈদের জামাত পরিহার করে ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত মসজিদে আদায় করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ের বিষয় দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ওলামা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে গত ১২ জুলাই জুম ক্লাউড ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভার আয়োজন করা হয়। সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক জামাত অনুষ্ঠানের বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক শর্তসাপেক্ষে ঈদুল আজহার নামাজের জামাত মসজিদে আদায়ের জন্য আহবান জানানো হলো।’

জানা যায়, গত দুই বছর ধরে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান ও পাশেই অবস্থিত সামসুজ্জোহা ক্রীড়া কমপ্লেক্স মাঠে একযোগে আয়োজিত হয়ে আসছিল বৃহত্তর ঈদ জামাতের আয়োজন। এই ঈদ জামাতে অংশ নিতে নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা ছুটে আসতো। মুসল্লির সংখ্যা এত বেশি হতো যে দুই মাঠ মুসল্লিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে আশপাশের ফাঁকা জায়গা, বাড়ির ছাদেও মুসল্লিরা ঈদ জামাতে অংশ নিতো। মাঠে জায়গা না পেয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কে পেপাড় বিছিয়ে নামাজে অংশ নিতেন অসংখ্য মুসল্লি। যে কারণে ঈদের আগ মুহূর্তে দিন রাত কাজ করে জামাত আদায়ের পন্য মাঠ প্রস্তুত করতেন শ্রমিকেরা।

তবে এবার সেই দৃশ্য নেই। ঈদের শেষ মুহূর্তেও মাঠ প্রস্তুত করতে কোনো ব্যস্ততা নেই। আনা হয়নি আধুনিক প্রযুক্তির তাবু তৈরীর সরঞ্জাম। পুরো মাঠ এখন ফাঁকা। পাশেই অবস্থিত সামসুজ্জোহা ক্রীড়া কমপ্লেক্স মাঠেও গেল কয়েকদিনের বৃষ্টিতে হাঁটু পানিতে তলিয়ে গেছে। ঈদ জামাত আয়োজন হবে না বিধায় পানি নিষ্কাশন এবং বেড়ে ওঠা আগাছা পরিষ্কারের ব্যবস্থা করা হয়নি। অর্থাৎ গত ঈদের মত এবারের ঈদেও নারায়ণগঞ্জবাসীকে ছোট পরিসরে নিজ নিজ মহল্লার মসজিদেই ঈদের নামাজ আদায় করতে হবে।


বিভাগ : ধর্ম


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও