৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শুক্রবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ , ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

ইলিশ বর্ষা আমার শৈশব এবং বর্তমান আমি


সাবিকুন নাহার || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৪:৪৮ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০১৭ শনিবার


ইলিশ বর্ষা আমার শৈশব এবং বর্তমান আমি

আমার বাবা তেমন বৈষয়িক ছিলেন না। অদ্ভূত রকমের আলগোছে যাপন করেছেন যাপিত জীবন। আমার মা ও তাই। কোন অভিযোগ, অনুযোগ, উচ্চবাচ্চ আমরা কখনো দেখিনি তাদের মধ্যে! জানি বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে, তবে এটাই সত্যি। কোনকিছু ঠিকঠাক না পেয়েও যে ঠিকঠাক জীবন যাপন করা যায়, এটা আমি শিখেছি আমার মা বাবাকে দেখে।

বর্ষা নিয়ে অনেক স্মৃতিকথা আমার আছে। তবে সবগুলো ছাপিয়ে একটি দৃশ্য জ্বলজ্বল করে হীরের মতো। প্রবল বৃষ্টি। টিনের চালে সেতারের ঐকতান। আর চাল চুইয়ে পানি পরে ভিজে যাওয়া আমার মায়ের সংসার।

চালের ফুঁটো দিয়ে আকাশ দেখার বিলাসিতা আমাদের যেমন ছিলো। তেমনি বৃষ্টির পানিতে হুটোপুটি খাবার সুযোগ ও ছিলো। এটা আমাদের জন্য আনন্দের হলেও মা`র জন্য ছিলো কষ্টের। ঘর সুষ্ক রাখার জন্য মাকে গলদঘর্ম হয়ে পানি মুছতে হতো। বাবা চুপচাপ দেখতেন। একটা গোপন দীর্ঘশ্বাস ও মনেহয় লুকাতেন মাকে আড়াল করে। কিংবা পরস্পর পরস্পরকে আড়াল করে।

ইলিশ মাছ আমার দারুণ লাগে! বাচ্চাদের বাবা এটা কখনো ভুলে না। সারা বছরই ইলিশ রাখে ঘরে। সরষে ইলিশ... গরম ভাত... দু একটা কাঁচা লংকা... আহ্! তারপরও আমার চোখ অতিতে ফিরে। দেখে আসি গচ্ছিত রাখা শৈশব-

বাবার একহাতে ইলিশ মাছ অন্য হাতে ডাঁটা। মুখে এক চিলতে লাজুক হাসি। যেনো সম্পদহীন কোন রাজার আকস্মিক কোন রাজ্য জয়! তখন আমাদের জোছনা আর বৃষ্টি মুখর আলোকিত ঘরে উৎসবের আমেজ। ইলিশ উৎসব!!!

আর হ্যাঁ বলে রাখি, ডাঁটা ইলিশের যুগলবন্দি আমার মায়ের শ্রেষ্ঠ রান্নার একটি। আমিও ইলিশ ডাঁটা করি তবে মায়ের মতো হয় না। বাচ্চা এবং তাদের বাবার মতে আমার করা সরষে ইলিশটা নাকি মনমাতানো! আমার হাতটাই নাকি সোনার পাতে মুড়িয়ে দেয়া উচিৎ!!

এখন অবশ্য বেমালুম ভুলে গেছে। নিশ্চয় জিজ্ঞেস করলে বলবেন, কই না তো! আমি আবার কবে বল্লাম!
তবে কোনটা যে সত্য আর কোনটা যে মিথ্যা সেটা কিন্তু আমি বুঝি! হুম...

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

স্যোশাল মিডিয়া -এর সর্বশেষ