৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শুক্রবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ , ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ

ভালোবাসা পেতে যা যা করেছিলেন শামীম ওসমান (ভিডিও)


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৭:১৯ পিএম, ৩ ডিসেম্বর ২০১৭ রবিবার | আপডেট: ০৭:৪২ পিএম, ৩ ডিসেম্বর ২০১৭ রবিবার


ভালোবাসা পেতে যা যা করেছিলেন শামীম ওসমান (ভিডিও)

শামীম ওসমানকে অনুষ্ঠানের শুরুতেই উপস্থাপক জিজ্ঞাসা করেন তার গার্ল ফ্রেন্ডের ব্যাপারে। শামীম ওসমান তখন উত্তর দেন তার কোন গার্ল ফ্রেন্ড নেই। তখন উপস্থাপক বলেন, আপনার মত একজন সুদর্শন লোক গার্লফ্রেন্ড ছাড়া সময় পার করছেন এটা কি আসলে মেনে নেয়া যায়। তখন শামীম ওসমান বলেন, না মেনে নিতে হয়তো আপনার কষ্ট হচ্ছে কিন্ত আমার বউটা এত ভালো যে ওর মুখটা দেখে আর কোন গার্লফ্রেন্ড খুজার দরকার পড়েনা। সি ইজ ভেরী নাইস। আমার তরফ থেকে ওয়ান সাইড প্রেম করে বিয়ে করেছি।

শনিবার (২ ডিসেম্বর) একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের একটি রম্য ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপক ছিলেন টিভি অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয়।

নিজের প্রেমের গল্প বলতে গিয়ে তিনি বলেন, যখন আমি ভিপি ছিলাম তখন আমার সেই প্রভাব ছিল ছাত্ররাজনীতিতে। তখন আমার সরকারি তোলারাম কলেজে সব মেয়েই আমার সাথে কথা বলতো, সবাই আমকে খুব ভালোবাসতো নিজের ভাইয়ের মত। কারণ সকলেরই ধারনা ছিল কারো কোন সমস্যা আমি সমাধান করতে পারবো। এই কলেজের পাশেই ছিল মহিলা কলেজ। সেখানেও সবাই আমাকে ভাইয়ের চোখেই দেখতো কিন্তু আমি চাইতাম না। কারণ সবাই বোন হয়ে গেলে তো সমস্যা। তখন অনেকে মেয়েকেই হয়তো পছন্দ হয়েছে প্রথম দেখাতে কিন্তু তখন আমাদের যেই চাল চলন ছিল, কাপড় চোপড়ের যেই অবস্থা ছিল এবং লাইফস্টাইল যেমন ছিল কোন মেয়েদের আমাদের ভালোবাসা উচিত ছিলনা। ভালোবাসা জিনিসটাকে আমি খুব সম্মান করি কারণ এটা খুবই পবিত্র জিনিস। যদি সত্যিকারের ভালোবাসতে পারে কোন ছেলে কোন মেয়েকে তাদের দুজনই খুব ভালো মানুষ হবে। আর অন্য সেন্সে নিলে যেটা আপেক্ষিক ভালোবাসা সেটা আমার মনে হয় পবিত্র না। এরকম অনেক মেয়েকেই হয়তো চোখের প্রথম দেখায় ভালো লেগেছে এবং সে যখন সেটা বুঝতে পেরেছে সাথে সাথে কনভেন্স হয়ে গেছে। সেই মেয়েটাকে আমার ভালো লাগেনি।

তিনি বলেন, আমার যে স্ত্রী তার নাম লিপি। তো ওকে যখন আমার পছন্দ হয়েছে ও মহিলা কলেজের ছাত্রী ছিল। আমি তখন যেমন পাওয়ারফুল ছিল ওর কনভেন্স হবার কথা কিন্তু ও হয়নি। ২ বছর ধরে চেষ্টা করেছি কোনভাবেই কনভেন্স হয়নি। কনভেন্স না হওয়াতে আমার কিছু বন্ধু ছিল। এখনো আছে। আমরা এখনো মাঝে মাঝে বসি। আমরা যখন বসি আমাদের বয়স থাকে ১৮ এর কম তবে আমাদের আড্ডায় খারাপ কিছু হয়না। ওরা যখন দেখলো আমার অবস্থা খারাপ তখন ওরা বললো আমি তো মরে যাবো। ওরা তখন নরসিংদী না কোথা থেকে এক ফকির বাবার কাছ থেকে গোল মরিচ নিলো। এত বড় সাইজের প্যাকেটে গোল মরিচ মিনিমান ২০ কেজি হবে। এই গোল মরিচ প্রতিদিন ফজরের নামাজের আগে উঠে ৭টা করে পোড়াতে হবে। পোড়ালে আমি যাকে ভালোবাসি কিংবা আমি যাকে চাই যিনি এখন স্ত্রী আমার তার মন আমার জন্য জ্বলবে। তবে শর্ত হচ্ছে ফজরের আগে পোড়াতে হবে এবং কেউ দেখতে পারবেনা।

শামীম ওসমান বলেন, আমি এর মধ্যে একমাস পোড়ালাম কিন্তু কোন প্রতিক্রিয়া দেখলাম না। একদিন সকালে আমি পোড়াচ্ছি, গোলমরিচ পোড়ালে টাস টাস করে শব্দ হয়। আমার বাবা আমাকে পেছন থেকে দেখছেন আমি পোড়াচ্ছি, তখন ফজরের আগে। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন তুমি কি করছো। আমি এমন ভয় পেলাম ভয়ে আমার হাত পা কাপছে। তখন বললাম, আমাকে একজন হুজুর বলেছেন আমি যদি ফজরের নামাজের আগে এই মরিচ পোড়াই তাহলে বাড়িতে কোন খারাপ কিছু আসতে পারবেনা। তখন বাবা বললেন পোড়াও পোড়াও।

এরকম আরো দুই তিনমাস গেল। তখন তো আন্দোলন আর আন্দোলন। একদিন যেকোন একটা ইস্যু নিয়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছি তখন সারাদেশে স্কুল কলেজে স্ট্রাইক। তখন এটা ঘন ঘন হতো। তখন আমি মহিলা কলেজে গিয়েছি আন্দোলনের জন্য। এমনিতে মহিলা কলেজের গেট খুলতনা কিন্তু আমরা এতটাই জনপ্রিয় ছিলাম যে আমাদের কলেজের সকল শিক্ষক আমাকে ভালোবাসতো মহিলা কলেজের সকল শিক্ষকও আমাকে ভালোবাসতো। আমি গিয়ে বললাম গেট খুলো ওরা গেট খুলে দিলো। আমরা কলেজে ঢুকলাম। এত মেয়ে কিন্তু আমার যেখানে চোখ যাবার সেখানেই গেলো। দূরে দাঁড়িয়ে দেখলাম আমার বর্তমান ওয়াইফসহ তার তিনজন বান্ধবী দূরে দাঁড়িয়ে আছে। দেখলাম হঠাৎ করে ওরা তিনজন আমার দিকে দৌড়ে আসছে। আমি খুব ঘাবড়ে গেলাম যে তিনজনের মনেই কি আগুন জ্বললো? আমার বাবা খুব কড়া মানুষ ছিল। আমার বড় ভাই সেলিম ওসমান এমপি উনি আমাকে মারতেন। আমরা যখন বড় হয়েছিল তখনো মাগরিবের পর বাসায় প্রবেশ নিষেধ ছিল। আমি তো ভয় পেয়ে গেলাম মেয়ে যেভাবে দৌড়ে আসছে, আমাকে যদি জড়িয়ে ধরে এবং বলে আমাকে নিয়ে নিয়ে যাও আমি কোথায় নিবো। তখন আমার পকেটে ১০ টাকায় থাকতোনা, তার উপর আবার তিনজন। আমি তখন ওদের দৌড় দেখে আমি উল্টো দৌড় দিলাম। আমি গিয়ে সোজা প্রিন্সিপালের রুমে গেলাম নিজের নিরাপত্তার জন্য কিন্তু পরে বুঝলাম যে ওরা আমার জন্য দৌড়ায়নি। ওরা আন্দোলনের সুযোগে তখন কলেজ পালিয়েছে। তার মানে মরিচ কোন কাজই করেনি। তারপর আরেক বন্ধু বললো কি একটা রাতে পানির নিচে ডুব দিয়ে গুজে আসতে হবে আবার এক ডুবে পানি থেকে তুলে বটগাছে বেধে দিয়ে আসতে হবে। যখন গাছ দুলবে আমার স্ত্রীর মনও পুড়বে। ঐটাই দিলাম। অনেক কিছুই করেছি এবং মজার ব্যাপার ওকেও পেয়েছি।

আমি খুশী হয়েছি যে আমি তাকে পেয়েছি এজন্য আমি অনেক বেশি হ্যাপি।

এ সংক্রান্ত আরো সংবাদ পড়তে ক্লিক করুন

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

স্যোশাল মিডিয়া -এর সর্বশেষ