৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শুক্রবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ , ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ

গান না গেয়ে নতুন প্রজন্মকে যা বললেন শামীম ওসমান


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৪৯ পিএম, ৩ ডিসেম্বর ২০১৭ রবিবার | আপডেট: ০৮:৫৯ পিএম, ৩ ডিসেম্বর ২০১৭ রবিবার


গান না গেয়ে নতুন প্রজন্মকে যা বললেন শামীম ওসমান

নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, আমার একটা অনুরোধ যাদের বাবা মা জীবিত রয়েছে তাদের কাছে। বাবা মা আসলে এত সুন্দর একটা জিনিস যা আমরা থাকা অবস্থায় বুঝিনা। আমার একটা ছেলে একটা মেয়ে আছে। নতুন প্রজন্মকে নিজের সন্তান হিসেবে বলতে চাই, পৃথিবীতে একটা সন্তান একটা বাচ্চা তাকে কেউ আটকানোর ক্ষমতা রাখেনা যদি তার উপর তার বাবা এবং মায়ের দোয়া থাকে।

শনিবার (২ ডিসেম্বর) বেসরকারি টিভি চ্যানেল এটিএন বাংলার রম্য ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘সেন্স অফ হিউম্যার’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপক ছিলেন টিভি অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয়। জয় শামীম ওসমানকে শেষ সময়ে গান গেলে সমাপ্তি করতে বললে তিনি গানের পরিবর্তে এসব কথা বলেন।

শামীম ওসমান বলেন, মা বাবা এমন একটা জিনিস। যার উপর মা বাবার দোয়া থাকবে তার উপর আল্লাহর রহমত থাকবে। মা জিনিসটা কি এটার একটা উদাহরন আমি দিতে চাই।

নিজের মায়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, আমার মা প্রায় দুই বছর আগে মারা গেছে। মৃত্যুর আগে শেষ তিন বছর আমি ঘরে ঢুকার সময় এবং বের হবার সময় যেকোন এক ব্যক্তি কথায় মায়ের কপালে ও পায়ের তলায় একটা চুমু দিতাম। ওই লোকটা আমাকে শিখিয়েছেন, তুমি তো জান্নাত নাও পেতে পারো কিন্তু মায়ের পায়ের নিচে তোমার বেহেস্ত। আমার মা মানা করতেন। তিনি অত্যন্ত জ্ঞানী মহিলা ছিলেন। আমি তখনি বুঝিনি আমার মায়ের মৃত্যুতে আমি কষ্ট পারবো। আমার মা হঠাৎ করেই মারা গেলেন। আমি আইসিইউতে গেলাম। ঢুকতে দেয়না কাউকে আমি শামীম ওসমান বলে জোর করে ঢুকেছি। সব ডাক্তার আমি এক করেছি। উনাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। এটা খুবই কষ্টের জিনিস। আমি ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করলাম আমার মা কি কিছু বুঝতে পারছেন। উনি বললেন, উনি আপনার কথা বুঝতে পারছেন হয়তো। উনার সেন্স আছে উনি কিছু বলতে পারবেন না। যখন ওই মোটা মোটা পাইপ আমার মায়ের গলা দিয়ে নাক দিয়ে ঢুকালো আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল। তখন আমি আমার মাকে ধরে মুখে গালটা লাগিয়ে আম্মাকে জিজ্ঞাসা করছিলাম ‘আম্মার আপনার কি কষ্ট হচ্ছে। আম্মার আপনার কি কষ্ট হচ্ছে। আম্মার আপনার কি কষ্ট হচ্ছে।’ আমি দেখলাম আমার মায়ের চোখ বেয়ে পানি আসছে। তিনি উত্তর দিলেন উহু। তার ঘণ্টা দুয়েক পরে আমার মা চলে গেলেন।

আমি পরে চিন্তা করলাম আমার মা একটি ইনজেকশন দিতে গেলে চিৎকার দিয়ে দুনিয়া এক করে ফেলেন সেই মা কেন তার কষ্ট হচ্ছেনা বললেন। ভাবলাম এটিই মা তিনি হয়তো ভেবেছেন আমি যদি বলি আমার কষ্ট হচ্ছে তাহলে আমার ছেলে কষ্ট পাবে। আমি নতুন প্রজন্মের ছেলে মেয়েদের তাই বলতে চাই, যাই করো দুনিয়াতে মা বাবাকে সুখী করো। যে মা বাবাকে সুখী করবে তাকে কেউ আটকাতে পারবেনা। যেমন আমি, আমাকে কেউ আটকাতে পারেনি। আমার দোয়া আমার ছেলে মেয়ের প্রতি আছে আমি তাদেরকেও বলি যেন তারা আর যাই করুক আর না করুন দুনিয়ার মানুষের দোয়া নিতে পারেন।

জীবন বাঁচাতে খাটের নিচে ঢুকেছিলেন শামীম ওসমান
নারায়ণগঞ্জে একবার পুলিশ, বিডিআর শামীম ওসমানের বাড়ি ঘেরাও করে ফেলেছিল। সে সময় নিজের জীবন বাঁচাতে একটি খাটের নিচে ঢুকেছিলেন শামীম ওসমান।

শামীম ওসমান বলেন, একবার আমার বাড়ি ঘেরাও করে ফেললো পুলিশ, বিডিআর আর কি যেন। কয়েকশ পুলিশ। আমার এলাকায় কোন বিএনপি আওয়ামীলীগ নেই। সেখানে সবাই আমাকে ভালোবাসে। আমার এলাকায় পুলিশ ঢুকলেই সবাই বাড়ির লাইট নিভিয়ে দেয়। সেদিনও দিয়েছিল। আমি খেয়াল করিনি। আমার দেশের পুলিশ অনেক দক্ষ।

‘যখন ওরা আমার খুব কাছে চলে আসলো। তখন ওরাও বুঝতে পারছিলনা এটা আমি কিনা। সমস্যা ছিল আমার হাইট। তখন আমি বুঝতে পেরে দিলাম দৌড়, কারণ আমাকে ধরতে পারলে ওরা মেরে ফেলতো। এরাও দৌড় দিল। আমাকে ধরতে পারেনি, আমি আমার এক স্যারের ছোট্ট একটা বাসায় ঢুকেছিলাম। উনার মেয়ে ছিলেন খুব ব্রিলিয়ান্ট। আমাকে চাচা বলে ডাকে। আমি তাদের দরজা খোলা পেয়ে তার বাসায় ঢুকে গেলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলো চাচা আপনি, আমি বললাম পুলিশ। তখন তারও আরো ৩ থেকে ৪ জন মেয়ে গেস্ট এসেছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম কোথায় পালাবো। উনি আমাকে বলতেসে আপনি খাটের নিচে ঢুকেন। উনার বাকি ৩ বোনকে খাটে শুইয়ে দিল এবং জুতাগুলো খাটের সামনে সাজিয়ে দিলো।’

তিনি আরো বলেন, আমি বুঝতে পারছিলাম পুলিশ পুরো বাড়ি ঘেরাও করে ফেলেছে। সমস্যা ছিল মশা। মেয়েটা আমার সারা শরীরে মশার স্প্রে দিয়ে দিল। কিছুক্ষনের মধ্যেই পুলিশ এসে দরজায় লাথি মারছে। পুলিশ ঢুকে যাবার পর তারা পুলিশকে ধমক দিলেন। বললেন, মেয়েরা ঘরে আপনাদের ঘরে মেয়ে নাই, এতগুলি মেয়ে আপনি ঘরে ঢুকলেন। তিনি ভয়ে বের হয়ে গেলেন পরে আবার ঢুকলেন। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন শামীম ওসমান কোথায়। মেয়ে বললো শামীম চাচা এখানে আসবেন কোথা থেকে।

‘তখন পুলিশ অফিসার বললো, শামীম ভাই বের হন আমরা আপনাকে দেখে ফেলেছি। আমি তো ভয় পেয়ে গেলাম মনে হয় ধরা খাইসি। পরে ভাবলাম একটু থামি। পরে আরেকজন পুলিশ বললো স্যার নাই। পরে তারা বেরিয়ে গেলে মেয়েটা আমাকে বললো বের হন চাচা পুলিশ চলে গেছে, আমি বললাম ওরা আবার আসবে। আমরা তো চোর পুলিশ খেলতে খেলতে অভ্যস্ত। ঠিক ৫ মিনিট পর ওরা আবার আসলো। এর পরের দিন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের অফিস থেকে আমাকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। পরে ৮ মাস পর আমি ছাড়া পেয়েছিলাম।’

২১-২২ জন মেয়েকে ভালো লেগেছিল শামীম ওসমানের, স্ত্রী লিপির নাম্বার ২৩
শামীম ওসমান বলেছেন, তার বিয়ের আগে অনেক মেয়েকে তার ভালো লেগেছিল। সে ভালো লাগা তিনদিনও টেকেনি। ২১-২২ জন এবং আরো বেশি মেয়েকে এমন ভালো লেগেছিল বলেও বলেছেন তিনি। ক্রিকেট খেলছিলাম একটা মেয়ের দিকে তাকালাম ভালো লাগলো কিন্তু সে মুখ বাকা করলো। তখন ক্রিকেটের বল ছুড়ে মেরেছি। পরে ওমগো বলে আমার বড় বোনের কাছে বিচার দিয়েছে আর আমার বড় বোন আমাকে ধরে পিটিয়েছে।

কেমন ছিল শামীম ওসমানের কারাগারের দিনগুলি
শামীম বলেন, এটা একটা মজার ব্যাপার। একটা ব্যাপার আমাদের ফ্যামিলিতে বাধা। আমরা পাঁচ ভাইবোন জন্মের সময় আমার বাবা জেলে ছিলেন। আমার বড় ভাইয়ের ছেলে হবার সময় তিনি জেলে ছিলেন। আমার ছেলে হবার সময়ও আমি জেলে ছিলাম। এটা ফ্যামিলিগত ভাবেই হয়ে আসছে। আমি ১৯ বছর বয়স থেকেই জেল খাটা শুরু করি।

তিনি বলেন, আমরা যখন ছাত্রনেতা হিসেবে জেলে যাই তখন আমাদের নাম-দাম খুব বেশী। আমি যেদিন জেলে প্রথম যাই সেদিন জেলে পাগলা ঘন্টি পড়েছে। পাগলা ঘন্টি মানে জেলে কেউ আসছে। জেলখানায় সেসময় রাজনীতিবিদদের অনেক বেশী সম্মান ছিল। আমার বাবাদের সময় শুনেছি তারচেয়ে হাজারগুন বেশী সম্মান ছিল। তখন তারা জেলে যেতেন রাজার মত বেরও হতেন রাজার মত। জেলে যাচ্ছি মানে এটা একটা গর্বের বিষয় ছিল কিন্তু আজ সেই রাজনীতিও নেই রাজনীতিবিদও নেই।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

স্যোশাল মিডিয়া -এর সর্বশেষ