আইনজীবী সাখাওয়াতের প্রেম

৩ ভাদ্র ১৪২৫, শনিবার ১৮ আগস্ট ২০১৮ , ৪:৩৫ অপরাহ্ণ

ভ্যালেন্টাইন স্পেশাল

আইনজীবী সাখাওয়াতের প্রেম


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:১৩ পিএম, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৩:১৩ পিএম, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ মঙ্গলবার


আইনজীবী সাখাওয়াতের প্রেম

ভালবেসেই বিয়ে করেছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তাঁর স্ত্রী শামীমা আক্তারও একজন আইনজীবী। নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজে অধ্যয়নকালেই দুজনের প্রেম প্রনয় ঘটে। প্রেমে পারিবারিক বাধা সৃষ্টি হলে পরিবারকে না জানিয়েই নিজেদের মতেই কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করেছিলেন তারা। বিয়ের পর উভয় পরিবার তাদের বিয়ে মেনে নিলে পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকতা হয়। দীর্ঘ ২৪ বছরে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও অ্যাডভোকেট শামীমা আক্তারের সুখের সংসারে শাহরিয়ার খান নামে একমাত্র ছেলে সন্তান রয়েছে।

অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে টানা দু’বার সভাপতি হন। এছাড়াও সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদেও নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত দীর্ঘদিন যাবত। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটির সহ সভাপতি। তবে গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি কারাবন্দী।

বিশ্ব ভালবাসা দিবস উপলক্ষে আলোচিত বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সঙ্গে তাঁর প্রেম কাহিনী নিয়ে কথা হয়। প্রেম বিষয়টি জানতে চাইলে অনেকটা লাজুক মুচকি হাসিতেই জানান তার জীবনের প্রেম অধ্যায়।

১৯৯০ সালে নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজে ভর্তি হওয়ার পর লেখাপড়ার সুবাদে পরিচয় হয় শামীমা আক্তারের সঙ্গে। লেখাপড়ার পাশাপাশি তাদের মধ্যে ঘনিষ্টতা সৃষ্টি হয়। দুজনের মধ্যে ভাল পরিচয় থেকে এক পর্যায়ে দুজনের অজান্তেই মন দেয়া নেয়া হয়ে যায়। যদিও প্রথম প্রপোজটা করেছিলেন সাখাওয়াত হোসেন খান নিজেই। কারণ তিনি আগে থেকেই আঁচ করতে পেরেছিলেন শামীমা আক্তারও তার প্রেমে পড়ে গেছেন। যে কারণে সাখাওয়াত হোসেন খান “ভালবাসী” শব্দটা বলার পর খুব সহজেই মেয়ে নিয়েছিলেন শামীমা আক্তার। চলতে থাকে দীর্ঘ আড়াই বছর প্রেম। তাদের প্রেমের বিষয়টি প্রথমে জানতে পারে শামীমা আক্তারের পরিবার। শামীমা আক্তারকে ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করে তার পরিবার। তাদের প্রেমের বিষয়টির বিরুদ্ধে কঠোর বিরোধীতা করেছিল শামীমা আক্তারের পরিবার। কিন্তু সেই বাধার কারনেই তাদের প্রেম আরো শক্ত ও মজবুত হয়। প্রেমে যখন প্রচন্ড বাধা সৃষ্টি হয় তখনি তারা উভয় পরিবারকে না জানিয়ে দেওভোগ নাগবাড়ি এলাকায় এক কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করেন। যে বিয়েতে উকিল করা হয়েছিল মসজিদের এক ইমামকে। বিয়ের পর দুজনই দুজনের বাসায় চলে যান। পরবর্তীতে তাদের বিয়ের বিষয়টি উভয় পরিবার জানতে পারলে তাদের বিয়ে মেয়ে নেয় দু’পরিবার। পরে আনুুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে শুরু হয় তাদের সংসার জীবন। পরবর্তীতে একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ কোর্টে প্র্যাকটিস শুরু করেন। ১৯৯৫ সালে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও ১৯৯৬ সালে অ্যাডভোকেট শামীমা আক্তার বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে সনদ পত্র লাভ করে আইন পেশায় নিয়োজিত হন।

অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে গর্বিত। আমার স্ত্রীর সব ধরনের গুণ রয়েছে। সে শুধু একজন স্ত্রী হিসেবেই নয় সে মা হিসেবেও উত্তম। আমি রাজনৈতিক কারণে আমার একমাত্র সন্তানকে বেশি সময় দিতে পারি না। সে সব সময় আমার সন্তানের যাবতীয় দেখাশোনা করে থাকে। সন্তানের টেককেয়ার করে থাকে। একজন যত্মশীল মা বলা যায় তাকে। আমার প্রতিও তার অগাধ ভালোবাসা রয়েছে। আমার কখন কি প্রয়োজন সে খুব ভাল বোঝে। আমি কখনও খুব ভোরে বাসা থেকে বের হওয়ার বিষয় জানলে সে ভোরেই আমার জন্য রান্না করে রাখে। সংসারের যাবতীয় দেখাশোনা সে করে থাকে।

অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ২৪ বছরের সংসার জীবনে কোন প্রতিকূলতা সৃষ্টি হয়নি। কখনও দুজনের ভালবাসায় সামান্যতমও চির ধরেনি। বিয়ের পর দুজনের ভালবাসা আরো হাজারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভালবাসার মূল শব্দটাই হলো বিশ্বাস। বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে ভালবাসা। অনেকের জীবনে প্রেম করে বিয়ে করার পর সংসার জীবনে নানা সমস্যার সৃষ্টি হতে দেখা গেলেও আমাদের জীবনে এখনও কোন ধরনের মনেমালিন্য সৃষ্টি হয়নি। বিশ্বস্থতাই স্বামী স্ত্রীর মধ্যে মধুর সম্পর্ক তৈরি করে। আমাদের এমন বিশ্বাস ও ভালবাসা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অটুট রাখতে চাই। সে জন্য সকলের কাছে দোয়া চাই। আর বিশ্ব ভালবাসা দিবসে সকলকে জানাই এ দিবসটির শুভেচ্ছা।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

স্যোশাল মিডিয়া -এর সর্বশেষ