হত্যার শিকার সেই মনির হোসেন উঠে আসলো কামাল মৃধার ফেসবুকে

সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪৪ পিএম, ৩ মার্চ ২০১৮ শনিবার



হত্যার শিকার সেই মনির হোসেন উঠে আসলো কামাল মৃধার ফেসবুকে

আওয়ামী লীগ নেতা কামাল মৃধার একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই বেশ আলোচিত হচ্ছে।

নিচে সেই স্ট্যাটাসটি দেওয়া হলো ‘বিএনপির হাতে খুন হয় মনির ভাই। মনিরুল ইসলাম মনির ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, তার আগে বৃহত্তর ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি। ৩ নভেম্বর ছিল জাতীয় ৪ নেতা হত্যা দিবস। দিবসটিকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ হরতাল আহবান করে। রাত ৩টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও শহর আওয়ামী লীগ অফিসের (২নং গেট পুরাতন ২তলার) দরজা ভেঙ্গে বিএনপির পরিচিত খুনিরা তাকে গুলি করে হত্যা করে।’

‘হরতালের আগে সন্ধ্যায় মশাল মিছিল করি। তখন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী, জোহা ভাই সভাপতি। আমি ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলাম। রাত ১১টায় আমাদের সবাইকে মনির ভাই বিদায় করে দিলেন, যাতে আমরা পরের দিন সকালে পিকেটিং করতে পারি। অফিসে রয়ে গেলেন আনসার ভাই, মনির ভাই, আনোয়ার ভাই, গোপী দা, কাদেরিয়া বাহিনীর সদ্য ফেরত নাছিম ভাই, দুলাল ভাই ও আরও কিছু নেতা অফিসে ছিল, আমরা চলে আসলাম ঠিকই কিন্তু কৌতুহল রয়ে গেল। বাসায় না গিয়ে অফিসের পাশে অন্য একটি দোতলা ঘরে ঘুমাতে গেলাম। হঠাৎ হই চই শুনে লাফিয়ে উঠে জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি খুনিরা স্লোগান দিচ্ছে ‘একটা একটা বাকসাল ধর, সকাল বিকাল নাস্তা কর।’

‘নড়বড়ে কাঠের সিঁড়িতে হামাগুড়ি দিয়ে উপড়ে উঠে, তার পর খুনিরা দরজা ভাঙ্গার চেষ্টা করছে। ২ মিনিটেই হাল্কা দরজাটা ভেঙে যায়। টিউব লাইটের সাদা ধব ধব আলোতে খুনিদের চিনতে কোন সমস্যা হল না, দলনেতা ফতুল্লার ওই বিশাল দেহের খুনি ছিল আমার ক্লাসের ছাত্র, তার নিয়মিত ক্যাপটা সেদিনও পরা ছিল (বর্তমানে প্রবাসী), আরেকজন উকিলপারার বিএনপির জন্মকালীন নেতা বর্তমান মহানগর বিএনপি নেতা, সাথে আরও ৩ জন। ২ মিনিটেই তারা মনির ভাইকে গুলি করে হত্যা করে, দ্রুত চলে যায়। পাশের বিল্ডিংয়ের বেলকনি দিয়ে নেতারা যে ভাবে চলে গেছে আমি ঠিক ওই রাস্তায় অফিসের ভিতরে ঢুকি।’’

‘‘মনির ভাইয়ে দেহটা মেঝেতে পরে আছে, সাথে সাথে তাকে কোলে তুলে নেই, গরম রক্ত আমার শরীর ভিজে যায়। তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করি, একসময় বুঝতে পারি মনির ভাই মারা গেছেন। তারপর আগের মতোই মনির ভাইকে মেজেতে রেখে দরজা বন্ধ করে দেই এবং টিউব লাইট বন্ধ করে কিছুক্ষণ বসে থাকি, কোন মানুষের সারা শব্দ পেলাম না, তার পর যে রাস্তায় অফিসের ভিতরে ঢুকেছিলাম সেখান দিয়েই বের হয়ে যাই। গোছল সেরে জানালার ধারে আবার এসে বসে থাকি, ফজরের নামাজ শেষে সবার আগে ঠিক ৬ টায় আনসার ভাই অফিসে আসে, দরজা বন্ধ দেখে সে জুড়ে ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলে মনির ভাইকে মেজেতে মৃত দেখতে পায়।’

‘সকাল ৬ টা ৪৫ মিনিটে একজন অপরিচিত লোক ঢুকে, আমার চোখের সামনে তার মানিব্যাগ, ঘড়ি নিয়ে দ্রুত চলে যায়। সকাল সাড়ে ৭টার পর থেকে মানুষ মনির ভাইকে দেখতে আসে। সকাল সাড়ে ১০ টায় জোহা দার আসার খবর পেয়ে লুঙ্গি ও হাফ হাতা সাট পরে অফিসের নিচে মিষ্টির দোকানে বসা তার কাছে সব কিছু খুলে বলি। তিনি আমাকে এই বিষয়ে কারো সাথে আলাপ করতে নিষেধ করেন, বলেন ক্ষমতাসীন বিএনপি আমার অনেক বড় ক্ষতি করতে পারে। আমাকে সাক্ষী রাখা হয়নি। মামলায় সবাই খালাস। আওয়ামী লীগ অফিসে মনির ভাইয়ের ‘শোক সভা’ করা দরকার। তা না হলে আমরাও খুন হলে কেউ মনে রাখবে না।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও