৮ শ্রাবণ ১৪২৫, সোমবার ২৩ জুলাই ২০১৮ , ১২:১৩ অপরাহ্ণ

ত্রিশ বছর পর ফের শামীম ওসমান ‘বর’ লিপি ‘কনে’


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৩১ পিএম, ১১ জুলাই ২০১৮ বুধবার | আপডেট: ০২:৩১ পিএম, ১১ জুলাই ২০১৮ বুধবার


ত্রিশ বছর পর ফের শামীম ওসমান ‘বর’ লিপি ‘কনে’

মাত্র কয়েক মাস আগে শেষ হয়েছে একমাত্র ছেলের বিয়ে। ধুমধাম করে নানা আয়োজনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। ছেলে বিয়ের এক বছর না যেতেই পুরানো সেই সাজে নতুন করে সেজেছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান ও তারই সহধর্মিনী বাংলাদেশ মহিলা সংস্থার নারায়ণগঞ্জ জেলার চেয়ারম্যান সালমা ওসমান লিপি। এ সাজে অভিনন্দন, ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা পেয়েছেন আত্মীয় স্বজন, বন্ধু, শুভাকাঙ্খী সকলের।

১০ জুলাই মঙ্গলবার দিনটি ছিল এমপি শামীম ওসমান ও সালমা ওসমানের জীবনের স্মরণীয় একটি দিন। যেদিন একের অপরের বন্ধনে বেঁধে ছিলেন নিজেদের। আর তাই মঙ্গলবার রাতে সেই ৩০ বছর আগের বর কনে সেজেছেন তারা দুইজন। শামীম ওসমান বর ও সালমা ওসমান লিপি। দিনটি আরো স্মরণীয় করতে দুই পাশ থেকে ঘিরে রেখেছিল তাদের দুই সন্তান অয়ন ওসমান ও মেয়ে লাদিবা জোহা অংগনা ওসমান। তাদের সঙ্গে ছিলেন একমাত্র পুত্রবধূ ইরফানা আহমেদ রাশমী ওসমান।

মঙ্গলবার রাতে শামীম ওসমানের বন্ধু ৭১’র ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি চন্দন শীল শামীম ওসমনা ও সালমা ওসমান লিপির বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটার মুহূর্তের বেশ কিছু ছবি আপলোড করা হয়। যেখানে পরিবারের লোকজনের পাশাপাশি বন্ধু ও রাজনৈতিক নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

শামীম ওসমান ও সালমা ওসমান লিপি বর্তমানে সময়ে নারায়ণগঞ্জের জনপ্রিয় দুই ব্যক্তি। যেমন রাজনৈতিক ভাবে তেমনি রয়েছেন সামাজিক ভাবে। যার ফলে ফেইসবুকে ছবি আপলোড হওয়ার পরপরই ভাইরাল হয়ে যায়। ইতোমধ্যে শুভাকাঙ্খী বন্ধু সকলের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা বার্তা দিতে শুরু করেছেন। কেউ কেউ লিখেছেন সেই ৩০ বছর পর আবারো বর কেনে সাজে সেজেছিলেন শামীম ওসমান ও লিপি।

দাপুটে শামীম ওসমানের ত্যাড়া মহিলার সঙ্গে প্রেম
শামীম ওসমান ছাত্র রাজনীতি থেকেই মূলত মূল দলে আসেন এবং এমপি হন। এ পথটা যেমন শামীম ওসমানের জন্য কঠিন ছিল তেমনি সালমা ওসমান লিপির সঙ্গে বন্ধনে বেঁধে ফেলাও সহজ ছিল না। সালমা ওসমান লিপিকে ভালোবেসে বিয়ে করেন শামীম ওসমান। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান এখন বেশ প্রভাবশালী। কিন্তু তাকে প্রেম করতে হয়েছে বেশ ধকল পেয়ে। কারণ প্রেমটা তার সহজ ছিল না। প্রিয় প্রেমিকাকে পেতে বেশ কষ্ট করতে হয়েছে। সহজেই ধরা না দেওয়ায় শামীম ওসমানকে ‘তাবিজ কবজ’ করা সহ অনেক পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়। কিন্তু প্রতাপশালী শামীম ওসমানের সেই প্রেম কাহিনীর কথা জানতো না অনেকেই। সেই প্রেম কাহিনীর আদ্যোপান্ত অবশেষে বর্ণনা একাধিবার করেছেন তিনি। জানিয়েছেন কিভাবে সালমা আক্তার লিপির সঙ্গে প্রেম করেছেন; দেখা করেছেন।

নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের ছাত্র রাজনীতি করা অবস্থায় সালমা আক্তার লিপির সঙ্গে প্রেমে হাবুডুবু খাওয়া সহ তার মন জয়ের জন্য কবিরাজের সহায়তা এবং বন্ধুদের সহযোগিতার কথা। শুধু তাই নয় বোমা, গুলি, হামলা মামলা এসব কিছু ভয় না পেলেও লিপি ওসমানের কাছে ভীতু ছিলেন বলেনও জানান তিনি।

নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে তিনি তার প্রেমকাহিনী সম্পর্কে বলেন। শামীম ওসমান বলেন, ‘‘আমি কোন দিন ভয় পাই না। এ কলেজে একদিন ভয় পাইছিলাম; মারাত্মক পাইছি। ভয় পাইয়া, এমন ভয় পাইলাম, ভয় পাইয়া এক দৌড় দিয়ে এ কলেজের প্রিন্সিপালের রুমে চলে গেছি। আমারে গুলি করছে আমি ভয় পাই না; আমার উপরের বোমা মারছে আমি ভয় পাই না। পুলিশ ধরতে আসছে ভয় পাই না। সেনাবাহিনী ধরতে আসলে ভয় পাই না। কিন্তু সেইদিন ভয় পাইছিলাম। কারণ আমার পেছনের যে মহিলা (স্ত্রী সালমা ওসমান লিপি) বসে আছে আমি ওনার পিছে পিছে একটু ঘুরতাম। বেশি চান্স দিত না। যেহেতু চান্স দেয় নাই বহুত ত্যাড়া মহিলা ছিল। এজন্য পিছে একটু বেশিই ঘুরতাম।

একটা পর্যায়ে ঘুরতে ঘুরতে ভাবলাম যে চান্স যখন দিলো না এটারেই বিয়া কইরাম। কিন্তু আমার বাসায় বাবা ছিল খুব কঠিন মানুষ। ভাইয়েরা আমাকে খুব শাসন করতো। আমি যখন তোলারাম কলেজের ভিপি। তখনও মাগরিবের নামাজের পর বাসায় ঢুকতে পারতাম না। মাগরিব পড়ার সাথে সাথে আমাকে বাসায় যেতে হবে এবং হাত মুখ ধুয়ে পড়তে বসতে হবে। আমি যত বড় যত কিছুই হই না কেন। আমার এ দুঃখ আমার বন্ধু বান্ধবের ভাল্লেগে না। এই যে হাই হুতাশ করি আল্লাহরে কি করে একে পাওয়া যায়। এতে আমার বন্ধুদের সহ্য হইলো না। আমার দুই বন্ধু একটা মারোয়ারী আরেকটা বন্ধু আছে এখন কানাডায়।

ওরা বললো, আমার দুঃখে দুঃখিত হয়েছে। আমার কষ্টে কষ্টিত হয়েছে। ৮৫ বা ৮৬ সালের ঘটনা দেখলাম এতগুলি গোল মরিচ নিয়ে এসেছে। এরকম পাঁচ কেজি গোল মরিচ। আমি বললাম, কি বলে এগুলো গোল মরিচ। আমি বলি কি করতে হবে বলে সকাল বেলা সাতটা গোল মরিচ ফজরের নামাজের আগে উঠাইয়া চুলার মধ্যে ছেড়ে দিবি। তারপর কি হবে তারা বললো গোল মরিচ যখন জ্বলবে তখন ওর (সালমা লিপি) মন তখন আমার জন্য জ্বলে উঠবে। সাত দিন লাগবে বেটা তারপর দেখবি তোর জন্য দৌড়াইয়ে চলে আসবে। তাই বন্ধুর কথায় ট্র্যাই করতে অসুবিধা কি। প্রতিদিন সকাল বেলা উঠাই রান্না ঘরে চুলার মধ্যে গোল মরিচ পোড়াই। একদিন হঠাৎ করে পোড়ানোর সময় পিছনের চেয়ে দেখি বাবা পিছনের দাঁড়াইয়া আছে। বাবা জিজ্ঞাসা করে রান্না ঘরে কি করো। এর মধ্যে আমার গলা শুকিয়ে গেছে। বাবা বলছে কি করো টস টস করে আওয়াজ হচ্ছে কেনো। বলছি গোল মরিচ পোড়াচ্ছি। বলে কেন পোড়াচ্ছো। মিথ্যা করে বলি আব্বা আমারে এক ফকির বলছে ফজরের নামাজের আগে যদি এ গোল মরিচ পোড়ালে নাকি বাসার ভিতরে নাকি কোন খারাপ জিনিস আসতে পারবে না। আমাকে কাউকে জানাইতে মানা করছে। তারপর বলে তাহলে পোড়াও সমস্যা নাই। এরপর আন্দোলন লাগছে। একদিন মহিলা কলেজে ঢুকছি। ঢোকার পর ওই যে আমার বন্ধু বলছে দৌড় দিয়া আমার বাসায় চলে আসবে। আমার দিন শেষ বাসায় চলে আসলে আমার বাপ দিবো আমারে মাইর। তখনও আমার বিয়ের বয়স হয় নাই। কি করি! আমি ভাবছি মিথ্যা কথা হবে না। এ কলেজে আসছি বক্তৃতা দিতে। তখন কলেজে গেট ছিলো বন্ধ বাহির হতে দিতো না মেয়েদের। এরা দেখছে আমি ঢুকছি ওনি (লিপি ওসমান) ওনার বান্ধবীরা দেখছে আমি ঢুকছি। আমি তখন পপুলার ছাত্র নেতা ছিলাম। আমি ঢুকছি তাই অবশ্যই কলেজের গেট খুলতে হবে। কলেজের গেট যেই না খোলছে ইনারা কলেজের কোনা থেকে দৌড় দিছে তখন আমি ভয় পেয়ে গেছি। আমি এক দৌড়ে প্রিন্সিপালের রুমে আর ওনারা যার ভয়ে দৌড় দিলাম ওনারা ডান দিক দিয়ে বেড়িয়ে যাচ্ছে।’

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

স্যোশাল মিডিয়া -এর সর্বশেষ