৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, মঙ্গলবার ২০ নভেম্বর ২০১৮ , ৬:২২ অপরাহ্ণ

rabbhaban

সেলিম ওসমানকে বিএনপি নেতাদের সমর্থনে ফেসবুকে সমালোচনা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:১৬ পিএম, ৩ নভেম্বর ২০১৮ শনিবার


সেলিম ওসমানকে বিএনপি নেতাদের সমর্থনে ফেসবুকে সমালোচনা

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের ক্ষমতাসীন দলের সাংসদ সেলিম ওসমানের পক্ষে বিএনপি দলের নেতাকর্মীরা গুণকীর্তণ করে তাকে ফের এই আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চেয়েছেন। এমনকি এই সংসদের কোন বিকল্প নেই উল্লেখ করে তার পক্ষে নির্বাচনী মাঠে থাকার ঘোষণা দেন। দীর্ঘদিন ধরে এমপি সেলিম ওসমানের পক্ষে বিএনপি দলের একাংশ নেতাকর্মীরা এই নেতার পক্ষে বিভিন্ন কার্যক্রম করতে দেখা গেলেও গত ২ নভেম্বর সমাবেশে বিএনপি নেতারা ফের তার পক্ষে নির্বাচনী মাঠে থাকার কথা জানান। এতে করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিএনপি দলের দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের তীর ছোড়া হয়। যেকারণে চারদিকে তীব্র সমালোচনার ঝড় বইছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের এমপি সেলিম ওসমানকে বিএনপি দলটির একাংশ নেতাকর্মীদের সমর্থন করা নিয়ে দলের মধ্যে আগে থেকেই দ্বন্দ্ব বিভক্ত রয়েছে। তবে সম্প্রতি এক সমাবেশে সেলিম ওসমান তার প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে ঘোষণা দিলে জাপা ঘেঁষা বিএনপি নেতারা ফের তাকে নির্বাচনী মাঠে সমর্থন দেয়ার ঘোষণা দেন। এতে করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও সমালোচনার ঝড় ফেসবুকে বইছে।

২ নভেম্বর শুক্রবার বিকেলে বন্দর ঘাট ময়মনসিংহ পট্টি এলাকায় ‘‘দল যার যার সেলিম ওসমান সবার’’ স্লোগানে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সর্বস্তরের জনগণের সাথে মতবিনিময় সভায় বিএনপির জনপ্রতিনিধিরা এই এমপির গুণকীর্তণ করে তার পক্ষে কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান।

সমাবেশে উপস্থিত বিএনপির জনপ্রতিনিধিরা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে আবারও সেলিম ওসমানকে পাশে চান। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, সেলিম ওসমানের মতো এমপি হয়না। তিনি দল মত নির্বিশেষে জনগণের জন্য কাজ করেন। তার মতো এমপির পাশে আমরা আছি, তার মতো এমপিকে আমরা পাশে চাই।

এই মতবিনিময় সভায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি ও বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল উপস্থিত ছিলেন। তবে তিনি কোন বক্তব্য দেয়ার সুযোগ পাননি। তার বক্তব্য দেয়ার আগেই সেলিম ওসমান বক্তব্য দিয়েছেন।

১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত হাসেম শকু বলেন, সেলিম ওসমান আমার ওয়ার্ডে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছেন। আমি কোন দলের রাজনীতি করি সেটা তিনি বিবেচনা করেন নাই। আমরা এরকম নেতাই চাই। আগামী নির্বাচনে আমরাও তার পাশে আছি।

২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক হান্নান সরকার বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান তার মেধা দিয়ে বন্দরবাসীর উন্নয়ন করছেন। তিনি বন্দরবাসীকে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন উপহার দিয়েছেন। সেলিম ওসমান জনপ্রতিনিধি হিসেবে শ্রেষ্ঠ। এজন্য আমরা আগামী নির্বাচনে সেলিম ওসমানকে সমর্থন করছি।

২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা সুলতান আহমেদ বলেন, দল যার যার সেলিম ওসমান সবার। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বন্দরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোটি কোটি টাকার কাজ করে বন্দরবাসীকে আলোকিত করেছেন। তাই আমি আগামী নির্বাচনে সেলিম ওসমানকে এমপি হিসেবে চাই।

২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা গোলাম নবী মুরাদ বলেন, এমপি সেলিম ওসমান ব্যবসায়িক প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে এসেছে। এখন রাজনীতি মানে পয়সাবাসী। বিগত ৪০ বছরে কোন বিরোধী দলীয় নেতাকে কেউ সহযোগিতা করে নাই। কিন্তু সেলিম ওসমান আমার হাতে ঈদ সামগ্রী তুলে দিয়ে বলেছেন, আমি কোন দল করি না। আগামী নির্বাচনে তাকে সমর্থন না করলে পাপ হবে। আগামীতে উনাকে আবার নারয়ণগঞ্জ-৫ আসনে সংসদ সসদ্য হিসেবে চাই।

এদিকে সমাবেশে বিএনপি নেতাদের এমন সব বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পাল্টপাল্টি অভিযোগ সমালোচনার নানা স্ট্যাটাস ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেসব স্ট্যাটাসে অভিযোগ-সমালোচনা ও পাল্টা অভিযোগের মত ঘটনা ঘটছে।

২ নভেম্বরের বন্দরে এমপি সেলিম ওসমানের সমাবেশে বিএনপি নেতাদের সমর্থনকে ঘিরে তীব্র সমালোচনা করে মহানগর বিএনপি সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘দলকে সমর্থন নিয়ে জনপ্রতিনিধি হয়ে যারা দলকে ভুলে নিজ স্বার্থে সরকারী দলের হয়ে কাজ করে তারা ব্ঈেমান।

এর পাল্টা জবাবে ২ নভেম্বরের সমাবেশে উপস্থিত হওয়া ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত হাসেম শকু তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘ভাবছিলাম আর ফেইসবুক ইউজ করবোনা। কিন্তু না লিখেও পালাম না। জনাব সাখাওয়াত সাহেব জনপ্রতিনিধি হওয়া মুখের কলা না। আর আপনি কি জিনিস সেটা আমার চেয়ে ভাল কেউ চেনে না বা জানে না। আপনার আতাতের কালের সাক্ষী আমি যা কেউ জানেনা। মুখ খুলাবেন না। সাধু সাবধান।’

এদিকে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কি কোন দায় দায়িত্ব নাই? যারা দলের দায়িত্বশীল পদে থেকে অন্য দলের সমাবেশে যেয়ে তাদেরকে ভোট দিতে আহবান করেন।’

এছাড়া দলের নেতাকর্মীরাও অভিযোগ করে বলছেন, ‘দলের নেতাকর্মীরা ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের পক্ষে ভোট চাইছেন। তাদের সমর্থন দিয়ে গুণকীর্তন করছেন। আগেতো বিএনপির অনেক নেতারা গোপনে আতাঁত করে চলতো। কিন্তু এখন প্রকাশ্যে ক্ষশতাসীন দলের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলেয়ে তাদের সুরে কথা বলছে। এভাবে চলতে থাকলে দল আর দল থাকবেনা। অন্যদিকে দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা মুখে কুলুপ এটে বসে আসেন। এজন্যই ক্ষমতাসীন ঘেঁষা বিএনপি নেতারা এতোদূর যেতে সাহস পাচ্ছে।

এতে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘ক্ষমতাসীনদের দলের এমপির পক্ষে বিএনপি নেতাদের প্রকাশ্যে ভোট চাওয়ার বিষয়টি বিএনপি দলের জন্য কোনভাবেই সুখকর নয়। উল্টো এই বিষয়কে কেন্দ্র করে বিএনপি দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব কোন্দলের সৃষ্টি হয়েছে। এমনিতে দলটি বেকায়দায় রয়েছে। তার উপরে দলের নেতাকর্মীরা এভাবে ক্ষমতাসীনদের পক্ষে মাঠে নামার বিষয়েটি দলের জন্য বেশ হুমকি স্বরুপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

স্যোশাল মিডিয়া -এর সর্বশেষ