সেই ইউএনও বীনার ‘প্রিয় শত্রু’

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:০১ পিএম, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার

সেই ইউএনও বীনার ‘প্রিয় শত্রু’

বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর নিজের ও গর্ভের সন্তানের বিষয়ে হৃদয়স্পর্শী ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে নারায়ণগঞ্জে আলোড়ন সৃষ্টিকারী নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসনে আরা বেগম বীনা এবার ‘প্রিয় শত্রু’ শিরোনাম স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তবে কার উদ্দেশ্যে দিয়েছেন সেটা কিছুই লিখেননি।

১৯ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ওই স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি তার প্রিয় সব কিছু ভালোবাসার অভিশাপ দেওয়ার জন্য বলেছেন। যা সম্পূর্ণ পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হলো।

“আমার প্রিয় শত্রু------। কেন জানিনা বারবার তোমার টার্গেটে পরিণত হয়েছি। পৃথিবীর এত মানুষ থাকতে তোমার টার্গেট শুধুই আমি কেন জানি না? সেটা কি শুধুই ঈর্ষা, না অন্যকিছু। তা এখনও আবিষ্কার করতে পারিনি। মনে পড়ে না কখনও তোমার মন্দ চেয়েছি বা তোমাকে অভিশাপ দিয়েছি। তবে এবার আমি না একজন মায়ের ভেতরের আত্মার দাবি ‘আমার সব প্রিয় ফুল, পাখি, ঝরা পাতা, ইটের দেয়াল, ধূলিকনা---’ আমার প্রিয় যা কিছু সব তোমায় ভালোবাসার অভিশাপ দিক”।

তবে স্ট্যাটাসে কেউ সেই প্রিয় শত্রু তার কোন নাম প্রকাশ করা হয়নি। নামের জায়গাটু ফাঁকা রাখা হয়েছে। এছাড়াও ঈর্ষা কি কর্মক্ষেত্রে না ব্যক্তিগত সেইসব কোন বিষয়ে উল্লেখ করা হয়নি। তাছাড়া এর আগে যার তদবিরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিয়ে ওএসডি করা হয়েছে সেই শত্রুকেই উল্লেখ করেছেন কিনা তাও স্পষ্ট করে কিছুই উল্লেখ করেননি।

প্রসঙ্গত ৯ ফেব্রুয়ারি নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জানান, ‘একজন নারী হিসেবে ৯ বছরের দাম্পত্য জীবনে বহু চিকিৎসার পরও যখন সন্তান লাভ করতে পারেননি তখন বিগত পাঁচ মাস আগে জানতে পারেন দুই মাসের সন্তান সম্ভবা। আর এ অবস্থায় নারায়ণগঞ্জের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নির্বাচনের কাজ অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করেন। এর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বাহবাও পেয়েছেন তিনি। একজন নারী কর্মকর্তা হিসেবে যখন এগিয়ে যাচ্ছিলেন তখনই একজন বিশেষ কর্মকর্তা বিভিন্ন মহলে পায়তারা করছিলেন বদলি করার জন্য। এরই মধ্যে ২০১৯ সালের ২০ এপ্রিল সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ডাক্তারী পরীক্ষার সময় একজন ব্যাচমেটের মাধ্যমে জানতে পারেন ওই নারীকে ওএসডি অর্থাৎ বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। আর অপরাধ হলো তিনি সন্তান সম্ভবা। খবর শোনে প্রচ- মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে ফুসফুসে ব্লাড সার্কুলেশন অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়। ফলে পেটের সন্তানের অক্সিজেনের সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যায়। এতে গর্ভের শিশু নড়াচড়া বন্ধ করে দিলে ডাক্তার ও পরিবারের সিদ্ধান্তে ৩১ মাস বয়সী প্রিমেচিউর বেবিকে সিজার করে বের করতে হয়। আর এখন সেই শিশু ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালের এনআইসিওতে বেঁচে থাকার জন্য প্রাণপন যুদ্ধ করে যাচ্ছে।’

তিনি স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘আমার অপরাধ হলো আমি সন্তান সম্ভবা, আর তার চেয়েও বড় কারণ হল সেই তথাকথিত ক্ষমতাধর কর্মকর্তার উপরের মহল কর্তৃক তদবির।’ তবে বিশেষ কর্মকর্তার পরিচয় উল্লেখ করেননি।’

তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘আমার এই নিষ্পাপ সন্তানটার কি অপরাধ ছিল? নাকি মা হতে চাওয়াটাই আমার সবচেয়ে বড় অপরাধ ছিল আমি জানিনা! তবে জানি একজন সব দেখেন তিনি আমার নিষ্পাপ মাসুম সন্তানের উপর এই জুলুমের বিচার করবেন। এই নিষ্ঠুর অমানবিকতার পৃথিবীতে কোন কর্তা ব্যক্তিদের কাছে আমি এ অন্যায়ের বিচার চাই না, শুধু আমার সৃষ্টিকর্তা কে বলবো তুমি এর বিচার করো! আর যারা আমাকে একটুও ভালোবাসেন আমার নিষ্পাপ সন্তানটার জন্য দোয়া করবেন, ও সুস্থ হয়ে গেলে কোন কষ্টের কথাই আমার মনে থাকবে না।’

স্কয়ার হাসপাতালের এনআইসিওতে চিকিৎসাধীন সন্তানের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে হোসনে আরা বেগম নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, আগের চেয়ে তার সন্তান ও তিনি ভালো আছে। তিনি সকালের কাছে সন্তানের জন্য দোয়া চেয়েছেন।

এদিকে ওই স্ট্যাটাসের পর দেশ জুড়ে আলোচনা শুরু হয়। কেন একজন গর্ভবর্তী নারী সরকারী কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে সে বিষয়ে তদন্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহাম্মদকে নির্দেশ দেন। এছাড়াও গর্ভবতী নারীকে কেন এমন করা হলো সেই বিষয়ে জানতে সংসদে নারায়ণগঞ্জের এমপি শামীম ওসমান ও ঢাকার এমপি চুমকি প্রশ্ন তুলেন। এরজন্য দুঃখ প্রকাশও করেন তারা।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও