যা ছিল ফরিদউদ্দিন রুমির ফেসবুকে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩০ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার

যা ছিল ফরিদউদ্দিন রুমির ফেসবুকে

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বেশ সক্রিয় জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা। হাতের মুঠোয় ইন্টারনেট আর মোবাইল ফোন আসার পর থেকে জঙ্গিবাদে যুবকদের আকৃষ্ট করতে এই পথকে বেছে নিচ্ছে তাঁরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন সময় ধর্মীয় বিষয়বস্তু নিয়ে পোস্ট করার মাধ্যমে যুবক যুবতীদেরকে আকৃষ্ট করে তাঁরা। এরপর যুবকরা যখন ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হতে থাকে ঠিক তখন ধর্মের নামে ভূল ব্যাখ্যা দিয়ে এসব যুবক-যুবতীদের জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত করছে জঙ্গিরা।

২৩ সেপ্টেম্বর সোমবরা নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার তক্কার মাঠ এলাকায় অবস্থিত একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে নব্য জেএমবির সদস্য আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক ফরিদউদ্দিন রুমিকে (২৭)।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাঁর ব্যক্তিগত একাউন্টে দেখা যায় একই কৌশলের ব্যবহার। তাঁর একাউন্ট থেকে বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় বিষয়ের ভিডিও ও লেখা পোস্ট এবং শেয়ার করা হয়েছে।

সর্বশেষ ৬ মে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার রুমি তাঁর ফেসবুকের প্রোফাইলে একটি নতুন ছবি আপলোড করে। যেখানে বাংলা অর্থ সহ প্রবিত্র কোরআন শরীফের একটি সুরার আয়াত রয়েছে। সেই আয়াতের বাংলা লেখা রয়েছে, “দীন গ্রহণের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই। নিশ্চয় হিদায়াত স্পষ্ট হয়েছে ভ্রষ্টতা থেকে। অর্থাৎ, যে ব্যক্তি তাগূতকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহর প্রতি ইমান আনে, অবশ্যই সে মজবুত রশি আঁকড়ে ধরে, যা ছিন্ন হবার নয়। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।”

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার নাম হচ্ছে মো. ফরিদ উদ্দিন রুমি (ইংরেজিতে)। ফতুল্লা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শেষ করার পর তোলারাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেন। এরপর আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি শেষ করে সেই কলেজের প্রভাষক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন এমন তথ্যই পাওয়া যায় তার ফেসবুক একাউন্ট থেকে।

রুমির একাউন্ট থেকে করা প্রায় সবগুলো পোস্টের মূল বিষয়বস্তুই হচ্ছে ইসলামি বিষয়বস্তু। বিশেষ করে সম্প্রতি তার ফেসবুক থেকে যতগুলো পোস্ট করা হয়েছে তার সবগুলোই ইসলামিক বিষয়। এছাড়া তাঁর পোস্টগলোর মাধ্যমে এক ধরনের মেসেজ দেওয়া হয়। যার মধ্যমে যে কোনো যুবক ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হবে।

ছেলেদের প্রসঙ্গে বাবা জয়নালউদ্দিন বলেন, তাদের মধ্যে হঠাৎ করে কোন পরিবর্তন দেখি নাই। আমার মনেও পড়ে না। তারা স্কুল, কলেজে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছে এমন কোন কিছু দেখি নাই। এছাড়া সব সময় নামাজ আগে থেকেই পড়ে। তাদের আমি আগেই সব সময় বলেছি যে, সন্তান হয় নেয়ামত কিংবা কেয়ামত। ছেলে যদি ভালো হয় তাহলে বাবা মায়ের জন্য নেয়ামত আর যদি খারাপ হয় তাহলে কেয়ামত। প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী আছে তারা কেউ বলতে পারবে না, আমার ছেলেরা খারাপ, মারামারি, কাটাকাটি, ঝগড়া করেছে। মানুষ তো নূন্যতম নালিশ দেয় সেটাও কখনো আসেনি।

‘‘বড় ছেলে রুমি আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ও প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষক। রুমি ব্যাচের প্রথম ছিল আর সেই হিসেবে সেখানেই চাকরি করছে। ছোট ছেলে রফিক কুয়েট থেকে পড়ালেখা শেষ করে চাকরির জন্য আবেদন করছে। ছেলেরা এসএসসি পাশ করেছে ফতুল্লা পাইলট স্কুল থেকে আর এইচএসসি পাস করেছে সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়।’’ বক্তব্যে যোগ করেন জয়নালউদ্দিন।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও