জাস্ট ওয়ান বুলেট ওয়ান টার্গেট দ্যাট ইজ শেখ হাসিনা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৪৮ পিএম, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ রবিবার

জাস্ট ওয়ান বুলেট ওয়ান টার্গেট দ্যাট ইজ শেখ হাসিনা

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান বেসরকারী স্যাটেলাইট চ্যানেল ‘চ্যানেল আই’ এর ‘৩০০ সেকে-’ অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে চলমান রাজনীতিক নানা ষড়যন্ত্র ও সংশয় নিয়ে আলোচনা করেন। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা উল্লেখ করে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন এই নেতা। ১৬ নভেম্বর শাহরিয়ান নাজিম জয়ের সঞ্চালনায় ‘৩০০ সেকে-’ অনুষ্ঠানে একমাত্র অতিথি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানের সাথে আলোচনার মধ্য দিয়ে রাজনীতিক নানা অজানা তথ্য বেরিয়ে আসে।

জয় : শামীম ভাই আপনাকে যারা ভুল বুঝিয়েছেন আমরা খেয়াল করেছি দেশের অন্যতম সেরা দৈনিক পত্রিকার ভেতরে অন্যতম। এই দূরত্ব বা ভুল বুঝাবুঝির শুরুটা কিভাবে ?

শামীম ওসমান : একটা হচ্ছে নিউজ তৈরি করা আরেকটি হচ্ছে নিউজকে পরিবেশন করা। নিউজ যারা পরিবেশন করে আই স্যালুট দেম (আমি তাদেরকে সালাম দেই)। নিউজ যারা তৈরি করে আই এ্যাম সরি টু ছে আমি তাদেরকে সম্মান করতে পারিনা। এর মধ্যে একজনই যিনি ছিলেন আমি তাকে ব্যক্তিগতভাবে সম্মান করি। বাংলাদেশের নাম করা মানুষ উনি একটা পত্রিকার সম্পাদক। আমি উনার পায়ে ধরে সালাম করে জিজ্ঞাসা করেছিলাম ভাই, আমি কি করেছি ? ইয়েস মে বি আমি ফল্ট করেছি (হ্যাঁ আমি হয়তো ভুল করেছি) আপনার পত্রিকায় লেখা হচ্ছে। আপনাদের পত্রিকার ইংরেজি ভার্সনে লেখা হচ্ছে, ‘ফাদার’স অব দ্যা গডফাদার কামিং ব্যাক’ আমি করেছি কি ? উনি খুব হাসলেন হেঁসে বললেন, তোমার মত ভাল ছেলে হয়না। আমি বললাম, তাহলে লেখছেন যে। বলল, তোমার বোনের বিরুদ্ধে লিখছি। আমার দুটো বোন বিদেশে থাকে কানাডা ও আমেরিকা থাকে। ওনি এমনভাবে হাঁসলেন আমি নিজেই একটু লজ্জা পেলাম। বুঝলাম যে, আমি একটা স্টুপিট টাইপ লোক হয়তোবা। উনার কথা বুঝতে পারিনি। বললাম যে, কার বিরুদ্ধে লিখছেন। তিনি বললেন, তোমার নেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে লিখছি। ওই কারণে লিখছি। আমি বললাম যে, উনি হিমালয় পর্বত আর আমি একটা ঘাস। ওনার সাথে আমার কি তুলনা। বলল, হাতগুলি কেটে দেয়া হচ্ছে। আমি বললাম, এটাই কি ইথিকস  (নৈতিকতা) ভাইয়া আপনাদের। বলল, এটাই আমাদের ইথিকস। আমি দেখলাম যে ওখানে কথা বলে লাভ নাই। এই যে পারসেপশন তৈরি করে দেওয়াটা। এখন কিন্তু লাভ হয়না বিকজ (কারণ) এখন স্যোশাল মিডিয়া আছে। মানুষ জানে, বরং উনাদের অবস্থান নষ্ট হয়। একটা পর্যায়ে মানুষ যখন দেখে আপনি যা বলছেন আর যে লোকটা আমাকে চিনছে দুটোর মধ্যে বিস্তর ফারাক। এবং অপজিট (বিপরীত) কথাটা লেখা হচ্ছে। একটা পারপাস (উদ্দেশ্য) সার্ভ  করছেন। একটা পর্যায়ে কিন্তু যেতে পারবেন মিথ্যা দিয়ে একটা পথ পর্যন্ত। বাট আলটিমেটলি (কিন্তু সর্বোপরি) আমি যদি সত্য হয়ে থাকি সত্যের সাথে কেউ পারেনা।

জয় : সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের একটি কলেজের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে আপনি বলেছিলেন খুব বড় কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে, বড় কিছুটা কি ?

শামীম ওসমান : দেশে কিন্তু ষড়যন্ত্র চলছে। এর মধ্যে কিন্তু নেকস্ট আমাদের গর্ব সে খুব স্টেট ফরোয়ার্ড সজিব ওয়াজেদ জয়। উনি কিছু ইঙ্গিত দিয়েছেন, কোন কোন দেশ চায় এ দেশে একটা দুর্বল সরকার আসুক। বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে এই দেশটাকে নিয়ে। এর মধ্যে একটা পার্ট হচ্ছে রোহিঙ্গা ইস্যু। এটা মানবতার কারণে এসেছে। ওখানে কিন্তু অনেক ধরনের ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বিদেশি টাকা ঢুকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, অস্ত্র ঢুকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এই দেশকে আনরেস্ট (অস্থির) করে এই সাউথ ইস্টকে আনরেস্ট করার জন্য। এখন টার্গেট একটা জিরো জাস্ট ওয়ান বুলেট ওয়ান টার্গেট (শুধু একটা বুলেট একটা টার্গেট) এবং দ্যাট ইজ (সেটি) শেখ হাসিনা। আমি যেটা বুঝি বাই এটি চাঞ্জ আল্লাহ মাফ করুক উনার যদি কিছু হয় দেশটা কিন্তু দেশ থাকবেনা।

জয় : আজকে যদি বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল থাকতো তাহলে বাইরের অপশক্তি কিন্তু ক্ষমতা দখল করার চিন্তা করতোনা ?

শামীম ওসমান : বিরোধী দল কাকে বলে। যে একটা সরকার কিংবা একটা দল তাদের আদর্শের আদর্শিক বিরোধী কথা বলে। বিরোধী দল যদি এইটা হয় আমি ওদের পারপাস সার্ভ করবো। এই বিরোধী দলের কি দরকার আছে।

জয় : সেই বিরোধী দলের কি জনসমর্থন আছে আপনি বিশ্বাস করেন ?

শামীম ওসমান : হ্যাঁ, অবশ্যই আছে। সত্তরে যখন বঙ্গবন্ধু নির্বাচনে জয়লাভ করেন তখন ১৯ বা ২১ পারসেন্ট ভোট পাইনি।

জয় : আপনি তো বেশ কয়েকবার এমপি হলেন। মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ কি এসেছিল বা ইচ্ছে আছে ?

শামীম ওসমান : এই যে দেখেন পত্রিকার মাধ্যমে এসেছিল। আমাকে মন্ত্রী হওয়ার কথা বলা হয়েছিল, আমি হইনি। হইনি কেন আমি মনে করিনা আমি মন্ত্রী হওয়ার মত উপযুক্ত হয়েছি। আমি মন্ত্রি হওয়া কিংবা এটা হওয়া আমি এগুলোতে বিশ্বাস করিনা। অনেস্টলি বলতে চাই, আমার একটা গোল আছে আমি একটু অন্য ধাচের রাজনীতি করতে চাই। আমরা বাংলাদেশের অন্যতম একটা ধনী পরিবারের ছেলে ছিলাম। সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম নিয়েছিলাম। পঁচাত্তর থেকে ঊনআশি পর্যন্ত একবেলা ভাত খেয়েছি এক বেলা খাইনি। আমি কিছু জিনিস উদাহরণ রাখতে চাই ফর দ্যা নেকস্ট জেনারেশন (পরবর্তী প্রজন্মের জন্য)। আমি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় হয়তো ক্ষমতা থেকে সরে যেতে চাই। আমি এমপি ইলেকশন করে ক্ষমতার রাজনীতি করতে চাইনা। আমি ক্ষমতার উৎস বানাতে চাই জনগণকে। ইট ইজ ট্রু (এটা সত্যি) প্রত্যেকটা জিনিসের একটা রিটায়র্মেন্টের (অবসর) লাইফ থাকা উচিত। আর সময় থাকতে রিটায়েরটে (অবসরে) থাকা উচিত। বাট (কিন্তু) আমি মানুষের মুখে থাকতে চাইনা। এইটা ফাইনাল এবং সত্য যে আমি মরে যাব, আমি মরবই। আজকে মরবো কিংবা কালকে মরবো। আমি মরার পরে একটা শব্দ চাই। সে শব্দটা আমার সন্তান মরার পরে শোনে কিংবা যদি আমার শোনার ক্ষমতা থাকে ‘আহারে লোকটা মরে গেল’, যদি কারো চোখের কোনায় একটু পানি আসে আমার জন্য, দেট ইজ মাই এচিবমেন্ট (এটা আমার অর্জন)।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও