ফেসবুকে শুধু চাষাঢ়ার ছিনতাইয়ের খবর

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫১ পিএম, ২ ডিসেম্বর ২০১৯ সোমবার

ফেসবুকে শুধু চাষাঢ়ার ছিনতাইয়ের খবর

নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন স্থানে অভিনব কায়দায় ঘটে চলেছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। ধারাবাহিকভাবে ঘটে যাওয়া এই ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলো উঠে আসছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে।

ফেসবুকে নারায়ণগঞ্জের জনপ্রিয় গ্রুপ পেজগুলোতে ঢুকলেই দেখা যাচ্ছে সেখানে ছিনতাইয়ের ঘটনার শিকার বা প্রতাক্ষদর্শীরা এসকল ঘটনার বর্ননা দিয়ে লেখা পোস্ট করছেন। সেই সাথে সাবধানে রাস্তাঘাট বা গণপরিবহনে চলাচলের জন্য নারায়ণগঞ্জবাসীকে সাবধান করছেন।

আসিক নামে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী রবিবার “নারায়ণগঞ্জ সারা দুনিয়ায়” ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করেন, ‘‘আপনারা সবাই জানেন চাষাঢ়ায় একটি চুরি ছিনতাইকারীর সিন্ডিকেট রয়েছে। আজ সন্ধ্যা ৬টা আনুমানিক। দুইজন ছিনতাইরী একজন নারীকে অনুসরণ করে। তারপর তার সাথে থাকা ব্যাগটি টান মেরে নিয়ে যায় চাষাঢ়া রেল লাইন বাগান বাড়ির সামনে। এখানে চায়ের দোকানে আড্ডা দেয়া কিছু যবুক ধরে ফেলে এবং নারীর ব্যাগ মহিলার কাছে ফিরিয়ে দেয়। অপর ছিনতাইকারীকে ধরতে পারে নাই। অত:পর কিছুক্ষণ উত্তম মধ্যম দেয়ার পর পুলিশ বক্স এ নিয়ে যায় জিয়া হলের পাশে। সেখান থেকে তারা ফিরিয়ে দিয়ে বলে চাষাঢ়া শহীদ মিনারের পুলিশ এর কাছে হ্যান্ডওভার করেন। তাকে নিয়ে যাওয়া হলে সেখান থেকে পুলিশ বলে, ‘চোর আমরা ধরি নাই। অতএব আমরা নিতে পারবো না, আপনারা মারছেন, মেডিকেল করতে হবে, বাদী হতে হবে তারপর আমরা নিতে পারি। অনেক কথা বার্তা বলার পর বলে ছেড়ে দেন। এই যদি হয় নারায়ণগঞ্জ এর অবস্থা তাহলে সিন্ডিকেট দের ধরা ছোয়ার বাহিরে। যেখানে পুলিশের সহযোগীতা নেই সেখানে নারায়ণগঞ্জবাসী চুরি ছিনতাই এর ভুক্তভোগী দিন দিন বৃদ্ধি পাবেই। অত:পর ছেড়ে দেয়। তারা যদি না নেন তাহলে আইন নিজের হাতেই কি তুলে নিবে জনগন? এখানে দোষী কারা এবং কাদের জন্য দিন দিন চুরি ছিনতাই বৃদ্ধি পাচ্ছে আপনাদের উপর ছেড়ে দিলাম।’

চোরকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার পরও কোন ভূমিকা না নেওয়ায় এই পোস্টটিতে অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা বাজে মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে স্পর্শ সামিরা নামে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী সোমবার ২ ডিসেম্বর “নারায়ণগঞ্জস্থান” ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করেন, ‘আজকে চাষাঢ়া যাচ্ছিলাম কলেজ থেকে, মৌমিতা বাসে... যখন জালকুড়ি আসলাম তখন বাসের মধ্যে হঠাৎ অনেক চেচামেচি হচ্ছে, তারপর শুনলাম একটা লোক নাকি আরেকটা লোক এর উপর বমি করেছে। ব্যাপারটা খুব অদ্ভুত লাগলো... তারপর যেই লোকটি বমি করেছে সেই লোকটি বাস থেকে নেমে গেলো... বাস ছাড়ার ২মিনিট পর যেই লোকটির উপর বমি করেছিলো সেই লোকটি বলছে তার কাছ থেকে নাকি ৩৫০০০ টাকা ছিলো এখন তা নাই। সে এ টাকাগুলো মাত্র ব্যাংক থেকে নিয়ে এসেছে... তারপর তার বুঝতে দেরি হলো না যে তার পকেটমার হয়েছে..এটা সকাল ১১.৩০ এর ঘটনা,,দিনে দুপুরে বাসে পকেটমার,,,সুতরাং সবাই একটু সাবধান এ থাকবেন,,,

এই পোষ্টটিতে এম তরিকুল ইসলাম কমেন্টস করেছেন যে, যতবার বাসে কাউকে বমি করতে দেখেছি ততোবারই পকেটমার হয়েছে। এরা আসলে বমি করে না, মুখের ভিতর ডাল রেখে দেয়।

নারায়ণগঞ্জের এরকম বহু অভিনব ও লোমহর্ষক ছিনতাইয়ের ঘটনা উঠে আসছে ফেসবুকের মাধ্যমে। একই রকম ঘটনা অনেকের সাথে ঘটেছে যা তারা এসকল পোষ্টের কমেন্টস বুকে উল্লেখ করছেন। তারা কমেন্টসে এটাও অভিযোগ করছেন যে প্রশাসন এরকম ছিনতাই ঘটনা প্রতিরোধের জন্য কোন কার্যকর ব্যবস্থাও নিচ্ছে না।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও