‘কাজল ভাইয়ের বাবা রাজাকার ছিলেন না’

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৮ পিএম, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ শনিবার

‘কাজল ভাইয়ের বাবা রাজাকার ছিলেন না’

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদা আক্তার মালার বিরুদ্ধে এবার পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন মহানগর যুব মহিলা লীগের যুগ্ম আহবায়ক শারমিন আক্তার মেঘলা। ১ ফেব্রুয়ারী তিনি মালার বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দেন ফেসবুকে। এর আগের দিন মালা ফেসুবেক দেওয়া স্ট্যাটাসে এমপি শামীম ওসমানের কাছে নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেন।

মেঘলা ফেসবুকে লিখেন, ‘গতকাল মাহমুদা আপার (সাংগঠনিক সম্পাদক নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামিলীগ) ফেসবুক স্ট্যাটাস এবং এই স্ট্যাটাস বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় দেখে খুবি মর্মাহত হয়েছি। ওনি ওনার স্ট্যাটাসে কাজল ভাইকে নিয়ে আপত্তিকজনক কথা বলেছে, তিনি মহানগর আওয়ামিলীগ এর গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে কিভাবে বিবেক বুদ্ধিহীনিদের মত কথা বললেন!!!! কোথায় পেলেন গোলাম রাব্বানী চাচা রাজাকার মুনতাসীর মামুনের বইয়ে??? সেখানে ভুল তথ্য থাকতে পারে!!!!। যদি ওনি রাজাকার হয়ে থাকতেন তাহলে ওনার দ্বারা সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি আগুন দিয়ে ঘরবাড়ি পোড়ানোর ঘটনা ঘটত কিন্তু এমন কোন ঘটনার কোন সংবাদ পাওয়া যায়নি। এছাড়াও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের কমান্ডার ও সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী সাহেব বলেছেন (কাজলের পিতা রাব্বানী ভাই রাজাকার ছিলেন না। তিনি শান্তি কমিটিতে ছিলেন। তিনি যদি রাজাকার হতেন তবে ১৯৭৩ সালে প্রয়াত জননেতা সামসুজ্জোহা ভাই, প্রয়াত পৌর পিতা আলী আহাম্মদ চুনকা ভাই ও রাব্বানী ভাইকে এক মঞ্চে অনুষ্ঠান করেছিলেন কি করে। সেই অনুষ্ঠান আমি স্বচক্ষে দেখেছি)। কাজল ভাই আপাদমস্তক আওয়ামীলীগ এর সেবক তিনি আওয়ামী লীগ এর কোন পদে না থেকে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ সহ সকল অঙ্গ সংগঠনগুলোকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছেন তিনি। তার এক ভাই জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে জড়িত। কাজল ভাই মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বহুতল ভবনের স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন (বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী সাহেবের ভাষ্য মতে)। কাজল ভাইকে ঝগড়াঝাটি মারামারি হানাহানি ঘটনায় দেখা যায়নি ওনি একজন মিষ্টিভাসী মিশুক মানুষ তাহলে কিভাবে তাকে নিয়ে বিবেকহীনভাবে কথা বলে। তিনি এই স্ট্যাটাসে আমার নাম সহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন, সেখানে তিনি আমাকে ভাড়াটে গুন্ডা হিসাবে আখ্যা দিয়েছেন। আমার একটা পরিচয় রয়েছে আমি নারায়ণগঞ্জ জেলা যুব মহিলা লীগের যুগ্ম আহবায়ক ব্যক্তিগতভাবে আমি একজন ফ্যাশন ডিজাইনার। গত ২৯ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ বারের নির্বাচন উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামিলীগ সহ সকল অঙ্গসংগঠন সেখানে (কোর্ট এরিয়াতে) গিয়েছিলেন। সেই সুবাধে আমিও গিয়েছিলাম এটা দোষের কিছু নয় তার মানে এই নয় যে আমাকে নেয়া হয়েছে ভাড়া করে মারামারি করার উদ্দেশ্যে। তাছাড়া আমার উপস্থিতকালিন সময়ে এমন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা আমি দেখিনি শুনিনি। আপনি বলছেন আপনি আদালতে যেতে ভয় পাচ্ছেন, আবার বলেছেন আপনি ভীতু নন এবং আত্মহত্যাও করতে চান তাই আপনার উচিত ভাল চিকিৎসক এর পরামর্শ নেয়া। বিঃদ্রঃ আমার কথা পছন্দ না হলে কাল সকালে আবার আমাকে রাজাকারের নাতি,সন্তান, স্ত্রী কিংবা চরিত্রহীন বানাবেন না আশাকরি। কারন আমি এমন পরিবারের সন্তান নই।

এর আগে ৩১ জানুয়ারী শুক্রবার বিকেল ৪টায় ফেসবুকে ওই পোস্টে মালা লিখেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য শ্রদ্ধেয় নেতা একেএম শামীম ওসমান মহোদয়। আপনার কাছে বিনীত নিবেদন, যদি আপনার আমার কোন কাজ পছন্দ না হয় আমাকে আপনি ধমক দিতে পারেন চাইলে চড় দিতে পারেন। কিন্তু কুখ্যাত রাজাকার গোলাম রাব্বানীর ছেলে কাজল আমাকে তার ভাগ্নীকে ও তার সহযোগীকে দিয়ে ২৮/১/২০২০ তারিখে আদালতের দোতলায় আমাকে অপদস্থ করার চেষ্টা করে কিন্তু আমার সিনিয়র ও অন্যান্য আইনজীবীর কারনে দৌড়ে সে পালিয়ে যায়। রাজাকারের বাচ্চা প্রকাশ্যে আদালতে আমাকে পিটানোর হুমকি দেয়। পিপির রুমে ২৯/১ তারিখে দুপুর ১.৩০ মিনিটে সে আমার নাম ধরে কাজল ভাই বলে সে সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে দুটা মেয়ে এনেছে মেঘলা আর মনিএবং তল্লার বিপ্লবকে এনেছে আমাকে পিটানো জন্য। যদিও বিপ্লবের সাথে আমার দেখা হয়েছে সে আমার পিছনে পিছনে এসেছে কিন্তু কোন কথা বলেনি।এর আগে ২০১৭ সালে এই কাজল রাইফেল ক্লাবের ভিতরে শিউলি নামে একটি মেয়েকে ঠিক করে আমাকে পিটানোর জন্য। মেয়েটি আমাকে পরে বলে দিয়েছে। তার জোড় সে আপনার বন্ধু। আওয়ামীলীগের মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক আমি, আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আর পিটায় রাজাকারের বাচ্চা। আমার আত্মহত্যা করা উচিত।

মালা আরো লিখেন, ‘আপনি বঙ্গবন্ধুর সহোচর, ভাষা সৈনিক মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শামসুজ্জোহা সাহেবের সন্তান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আদরের ছোট ভাই, আপনি থাকতে আমি রাজাকারের ছেলের হুমকী খাচ্ছি যেটা আমি মানতে পারছিনা, আপনি হয়তো জানেননা মুনতাসির মামুন, রীতা ভৌমিকের বইসহ অনেক বইতে এই রাজাকারের নাম লিপিবদ্ধ আছে। আমি একজন আইনজীবী আমি তার জন্য আদালতে যেতে পারছিনা, আমি জানি আপনি এর বিহিত করবেন। কারণ আপনি একজন দেশপ্রেমিক মানুষ।’

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতই ২৮ জানুয়ারী দুপুরে বিচার কার্র্য সম্পন্ন হচ্ছিল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে। আইনজীবীরা যার যার মতো করে মামলার শুনানিতে অংশগ্রহণ করে আসছিলেন। এরই মধ্যে হঠাৎ করে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আইনজীবীদের মধ্যে হুলস্থূল পড়ে যায়। আদালতের বারান্দায় গিয়ে দেখা যায় নারাণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহমুদা মালা ও মহানগর যুব মহিলা লীগের আহবায়ক সুইটি ইয়াসমিন চরম বাকবিতন্ডায় জড়িয়েছেন। একে অপরের দিকে তেড়ে যাওয়ার উপক্রম। পরে অ্যাডভোকেট খোকন সাহা ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

 



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও