রোগীকে ধমক দিয়ে বললেন ‘আপনি ডাক্তার না আমি’

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৭:৫০ পিএম, ২২ জুলাই ২০২০ বুধবার

রোগীকে ধমক দিয়ে বললেন ‘আপনি ডাক্তার না আমি’

নারায়ণগঞ্জের বন্দর প্রেস ক্লাবের সভাপতি কমল খান একই সঙ্গে দেশ রূপান্তরের নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি। ২২ জুলাই বুধবার নিজ ফেসবুকে চাষাঢ়ায় অবস্থিত ল্যাব এইড নিয়ে একটি অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন।

তিনি লিখেন, ‘একদিন চাঁদপুর যাওয়ার পথে গাড়ীতে হঠাৎ করে বুকে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করলাম। সাথে শরীরও ঘামছিলো প্রচন্ডভাবে। মনে হলো এই বুঝি শেষ সময়। সহযাত্রী এক চাচার দেয়া সেকলো খেয়ে বুকের ব্যাথা কমে গেলো।’

‘গন্তব্যে পৌছানোর পর আরও এক শুভাকাংখী ডাক্তার ভাই গ্যাস এরসহ আরো কিছু ওষুধ দিলেন। ব্যাথা কমে গেলো। মনে হলো গ্যাসটিক থেকেই ব্যাথাটা হয়েছে। তারপরও বাসায় এসে বলার পর ফ্যামিলির সবার পিড়াপিড়িতে হার্টের ডাক্তার দেখাতে রাজী হলাম।’

‘প্রথমে পপুলারে যাবো ভাবলেও পরে ল্যাব এইড এ ফোন দিলাম। রিসিপশনে ফোন রিসিভ করার পর বললাম বুকে ব্যাথা হয়েছিলো, একজন ভালো হার্টের ডাক্তার সিরিয়াল দিন। তিনি বললেন, তাদের এখানে দেশের অন্যতম একজন হার্ট স্পেশালিষ্ট আছেন। নামটা মনে পড়ছেনা এখন। সিরিয়াল দেয়া হলো। সময়মতো গেলাম। ডাক্তার আমার বর্ণনা শুনেই বললেন, আপনার হার্ট এটাক হয়েছে। ইসিজিসহ একগাদা টেস্ট দিলেন। বললেন আপনার হার্ট এ্যাটাক হয়েছে। ১৪টা ইনজেকশন লাগবে। এখনি ইনজেকশন কিনে দেয়া শুরু করুন। (এখানে উল্লেখ যে, কোথাও নিজের কোন কাজে গেলে পরিচয় দেয়ার অভ্যাসটা আমার আগে থেকেই নেই, এখানেও তাই হলো) আমি বললাম, টেষ্ট রিপোর্ট না দেখেই আপনি ইনজেকশন লিখে দিলেন। উনি ধমকের সুরে বললেন, ডাক্তার আমি না আপনি। যা বলেছি তাই করুন। উনি একজন হার্টের স্পেশালিষ্ট, বয়স্ক ব্যক্তি। চলে এলাম প্রেসক্রিপশন নিয়ে।’

বাইরে আসা মাত্র এক যুবক দৌড়ে এসে বললো দেখি প্রেসক্রিপশনটা। বললাম কেন। বললেন দেখিনা বলে হাত থেকে কেড়ে নিতে চাইলো। আমিও নাছোড়বান্দা। দিলাম না। বললাম তোমার সাহসতো কম না, আমার প্রেসক্রিপশন, আমার হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে চাও। পিডায়া হাড্ডি ভাঙ্গমু আরেকবার এমন করলে। ছেলেটা ততক্ষনে চম্পট দিলো।

‘বাইরে বেরিয়ে বারবারই মনে হলো যদি হার্ট এটাক হয়ে থাকে তাহলে গ্যাস এর ওষুধ খেয়ে ব্যাথা চলে গেলো ক্যামনে। আর ডাক্তার ইনজেকশন লেখার পর বাইরে প্রেসকিপশন দেখতে চাইলো ছেলেটা। তার মানে ডাল মে কুছ কালা হ্যায়।’

‘পরদিন এক ঘনিষ্ট বড়ভাই হার্টের ডাক্তার, ওনার কাছে গেলাম। (আগে যাইনি কেননা উনি দেখলে ফি নেননা) শুধু বল্লাম, বুকে ব্যাথা হয়েছিলো। গ্যাস এর ওষুধ খাওয়ার পর কমে গেছে। দেখেন তো হার্টটা ঠিক আছে কিনা। উনি নিজে ইসিজি করে বললেন, মাশআল্লাহ তোমার হার্ট ভালো আছে। কোন সমস্যা নাই। ব্যাথাটা গ্যাস থেকেই হয়েছিলো। এবার বাইরে খাওয়াটা বাদ দিয়ে বাসায় খাওয়ার অভ্যাস করো। নইলে ভবিষ্যতে সমস্যা হতে পারে।’

আমিও মহান আল্লাহ’র কাছে শুকরিয়া আদায় করলাম যে হার্ট এ কোন সমস্যা নাই। তখন মনে হলো ল্যাব এইডের সেই স্পেশালিষ্ট এর কথা। ওনার কথামতো ১৪টি ইনজেকশন নিলে কি হতো আল্লাহ ই ভালো জানেন। একবার মনে হলো চেম্বারে যাইয়া পিটাই। তারপর আবার ভাবলাম বয়স্ক স্পেশালিষ্ট, থাক একাজটি করবোনা। তখন থেকেই ল্যাব এইডে যেতে নিরুৎসাহিত করি পরিচিতদের....

সেই ল্যাব এইড মঙ্গলবার (২১ জুলাই) করোনা পরীক্ষার নামে প্রতারণা করতে গিয়ে ধরা পড়েছে। জেলা সিভিল সার্জন চিঠি দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন এর চিকিৎসা কার্যক্রম।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও