উৎসবের চালক ‘দানব’ বয়কট দাবীতে যাত্রীরা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৫৩ পিএম, ২৪ জুলাই ২০২০ শুক্রবার

উৎসবের চালক ‘দানব’ বয়কট দাবীতে যাত্রীরা

নারায়ণগঞ্জের উৎসব পরিবহনের চালক ও হেলপারদের দানব ও ধান্দাবাজ অ্যাখায়িত করে পরিহার বা বয়কট করার দাবি উঠেছে যাত্রীদের মধ্যে থেকে।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, চালক হেলপারদের খারাপ ব্যবহার করে মোটরসাইকেল চালকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়াও নারী যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে। তাছাড়া দুই একজন চালক ছাড়া সব চালকই উচ্ছশৃঙ্খল গাড়ি চালানোর অভিযোগও পাওয়া যায়।

২৪ জুলাই শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের অন্যতম জনপ্রিয় ফেসবকু গ্রুপ নারায়ণগঞ্জস্থানে এ বিষয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন ভুক্তভোগী উদ্ধারকারী মোটরসাইকেল চালক আমির ফয়সাল। এসময় তিনি বাইকের ধাক্কায় উৎসব গাড়ির যে দাগ পড়েছে সেসবের ছবিও পোস্ট দেন। এর জন্য লিখেন ‘সবুজ দাগ আগের আর লাল দাগ গতকালের।’

তবে তারই অভিযোগ ছিল এসব উচ্ছশৃঙ্খল চালকদের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে উৎসব পরিবহনের কর্ণধারদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য। কিন্তু এরই নিচে অন্য আরেকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন উৎসব পরিবহনের চালকদের উচ্ছশৃঙ্খলা গাড়ি চালানো ও হেলপারদের বাজে ব্যবহাররের বিষয়ে।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে আমির ফয়সাল উল্লেখ করেন, ‘২৩ জুলাই আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আমি বাইক নিয়ে আমার স্ত্রী সহ হানিফ ফ্লাইওভার দিয়ে গুলিস্থান থেকে নারায়ণগঞ্জে আসছিলাম। ফ্লাইওভার মাঝ পথে যে ভিটগুলো থাকে তার মধ্যে স্লিপ করে (তার বাইকের চাকা চিকন ছিলো) এক মধ্য বয়সী ভদ্রলোক তার বাইক নিয়ে স্লিপ করে মাঝ ফ্লাইওভারে পরে যায়। আমি তার একটু পিছনেই ছিলাম তার সামনে ছিলো উৎসব পরিবহন। লোকটি বাইক সহ স্লিপ করতে করতে উৎসব গাড়ির পিছনে যেয়ে হাল্কা ধাক্কা খায়। আমি সাথে সাথে ইমার্জেন্সি ব্রেক করে আরেক বাইকার ভাই সহ তাকে রাস্তা থেকে তুলি লোকটি ভয়ে কাঁপতছিল। উৎসব গাড়ির দানব ড্রাইভার গাড়ি বন্ধ করে নেমে এসে যে সিনপাট (ব্যবহার) করেছে আমি পুরাই টাস্কি (হতভম্ব)। ড্রাইভার গাড়ি থেকে নেমেই পরে যাওয়া লোকটিকে বলে ওই মিয়া আপনের হুন্ডার আমার গাড়ির পিছনে ধাক্কা লাগছে দাগ পড়ছে জরিমানা দিতে হইবো। এই কথা শুনে আমি ড্রাইভারকে বলি আপনি মানুষ না জানোয়ার একটা মানুষ এক্সিডেন্ট করতে করতে আল্লাহর রহমতে বেঁচে গেছে। আপনি ফাপর নেন জরিমানা চান কিসের জরিমানা। আবাল ড্রাইবার আমাকে বলে আপনে এত কথা কনকে আপনি এই লোকের জিম্মাদারি লইবেন আর কত তর্ক পুরাই অবাক হইছি। আমি ফ্লাইওভার থেকে নেমে যাত্রাবাড়ি উৎসব কাউন্টারে সুপারভাইজারকে বলি কেমন ড্রাইভার নিছেন মানুষ মারতে যেতে নিছে আর ওনি ফাপরে ধান্দাবাজি করতে চায়। ওই ড্রাইভার তখন আবার তর্ক শুরু করে আমার সাথে যখন বলছি তর সত্যি শনি আছে। আমি নারায়ণগঞ্জ থাকি তখন একটু শিতল হইছে। ওর গাড়িতে আগে থেকেই হাজার স্পট। বাইকের ধাক্কায় সামান্য স্পটে মানুষ উদ্ধার না করে ধান্দাবাজি করতে চায়। ও একটা অমানুষ ড্রাইবার। আমি ওর সাথে টেনে ফতুল্লা স্টেডিয়াম পর্যন্ত আসছি, পারেনা আমারে মাইরা ফেলে। যদি উৎসবের কেউ থেকে থাকেন ড্রাইবারদের একটু সচেতন মূলক শিক্ষা দিবেন।

আমির ফয়সাল জানান, ‘গাড়ি চালকের নাম মুরাদ। গাড়ির নাম্বার ঢাকা মেট্রো ব- ১৫-৬৬১২।

এদিকে স্ট্যাটাসের নিচে মন্তব্যে গাড়ি চালকদের উচ্ছশৃঙ্খল চালানো নিয়ে অভিযোগ করেন মাসিয়াত রহমান। তিনি উল্লেখ করেন,‘ভাই এক কথায় উৎসবকে আমাদের সবারই বয়কট করা উচিত। উৎসবের চালক বা হেল্পারদের আপনি দানব বা জানোয়ার বলে আখ্যা দিলে দানব বা জানোয়ার অপমান হবে। গত পরশু আমি ঢাকা যাওয়ার জন্য বিকেল ৪টার কিছু সময় পরে চাষাঢ়া কাউন্টার থেকে বাসে উঠি। ওঠার পর থেকেই লক্ষ্য করতেছিলাম ড্রাইভারের উড়াধুরা ড্রাইভিং (উচ্ছশৃঙ্খলভাবে গাড়ি চালানো)। সাইনবোর্ডের কিছু আগেই আমি ড্রাইভারকে বললাম মামা আপনি আস্তে চালান, বারবার আপনি কেনো ওভারটেক করার জন্য উঠে পড়ে লাগছেন। যেকোন সময় এক্সিডেন্ট হয়ে যাবে। পরে হেল্পার আমাকে বলে আপনি চুপ করে বসেন তো আপা। আপনার কথায় তো গাড়ি চালান যাইবো না। তখন আমি বললাম আমার কথায় গাড়ি চালাবেন না ভালো কথা একটা দুর্ঘটনা হলে আমার জীবনের দায়ভার আপনি নিবেন। হেল্পার আরও কথা বাড়তে নিছে ড্রাইভার হাতের ইশারায় তাকে চুপ করালো। এরপর ভাবলাম ওদের সাথে চিল্লাপাল্লা না করে একটা ভিডিও শ্যূট করে রাখি। যখন ভিডিও শ্যূট করার শুরু করলাম আর তেমন ঝামেলা করেনি তাই ক্যাপচার করতে পারলাম না।

তিনি আরো লিখেন, ‘এমন মনে হচ্ছিল যেনো জিকজাক রাস্তায় গেম খেলতেছে ড্রাইভিং না করে। এদের একটা বিহিত করা দরকার। ড্রাইভারটা মোটামুটি ইয়াং ছিল। গুলিস্তান নাম্বার ১৫ মিনিট পরেই আবার ব্যাক করি। তবে ফেরার পথে বন্ধ বাসে করে আসি। সেদিনের ড্রাইভিং এর কথা যতদিন আমরা স্মরণে থাকবে ততোদিন আমি ভুল করেও আর উৎসব বাসে উঠবো না।’

আসিফ আহসান নাহিন লিখেন, ‘উৎসব এর হাতে গোনা দুই একটা ড্রাইভার ছাড়া বাকি ড্রাইভারগুলো খুব রাফ টানে। মানুষের জীবন যেমন রিক্স থাকে তেমনি গাড়ির ফিটনেস ও খুব দ্রুত নষ্ট করে ফেরতেছে। এই রকম ড্রাইভার থাকলে তাদের যাত্রী অনেক কমে যাবে।’

শামছুল হক অপু লিখেছেন, আসুন সবাই উৎসব বাস পরিহার করি।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও