জন্মদিন পালন নিয়ে ‘মানবতার মা’ দিনার আবেগঘন স্ট্যাটাস

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৪৮ পিএম, ২৫ জুলাই ২০২০ শনিবার

জন্মদিন পালন নিয়ে ‘মানবতার মা’ দিনার আবেগঘন স্ট্যাটাস

গত ১৫ জুন প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় ‘মানবতার মা’ খ্যাত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর আয়শা আক্তার দিনার জন্মদিন। প্রতিবারের মতো এবারও তার শুভাকাঙ্খী ও সমর্থিতরা নানা উপহার সামগ্রী নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু এদিনই তার অফিসে হামলার ঘটনা ঘটে। আর সেই হামলার ফলে তার জন্য আর জন্মদিন পালন করা হয়ে উঠেনি। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

ওই স্ট্যাটাস কাউন্সিলর আয়শা আক্তার দিনা উল্লেখ করেন, গত ১৫ জুন আমার জন্মদিন ছিলো। সারাদিন পানি বন্দী মানুষকে ত্রাণ দিয়ে আসার পর বিকাল ৪ টা বাজে আমার আর শরীর চলছিল না। আমি বাসায় এসে গোসল করে খেতে বসে দেখি আমার মা ও আমার জন্য না খেয়ে বসে আছে। আমার পছন্দের সব খাবার রান্না করেছিলো। সবাই দুপুরে একসাথে খেয়ে আমি আর আম্মু খেয়ে আমি মাত্র বিছানায় শুয়েছি। এমন সময় প্রীতির ফোন, প্রীতি আপা ও রিয়া আমার জন্য কেক আর ফুল নিয়ে আসছে আমার অফিসে বসে আছে।

এদিকে জালকুড়িতে ছোট ভাই ইমরান, ভাতিজা হৃদয় সহ আরও কয়েকজন কেক এনে বসে আছে। এমনিতেই সেদিন পানিতে ত্রাণ দিতে গিয়ে পা কেটে গিয়েছিল তার উপর শরীল ক্লান্ত তারপরেও সবার ভালোবাসাকে উপেক্ষা করার সাধ্য আমার ছিলনা।

শরীরের উপর অনেকটা জোর করেই ঘর থেকে বের হলাম। বের হওয়ার সময় আম্মু বার বার বলে দিলো রাতে যেনো তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরি। কারন রাতে যেনো সবাই একসাথে ডিনার করতে পারি।

এদিকে ভাই, বোন, ভাই এর বউ ওরাও সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য কেক এনে রেখেছে। তারপর অফিসে গিয়ে প্রীতির সাথে কেক কাটি। প্রীতি নিয়ে জালকুড়িতে ইমরানদের বাসায় যাই সেখানেও বিশাল আয়োজনে স্নেহের ভাইগুলো আমার জন্য অপেক্ষা করছে। তারপর সেখানে কেক কেটে অফিসে আসি ভাতিজা হৃদয় মধুগড় থেকে এসেছে কেকে নিয়ে হৃদয়ের সাথে কেক কাটি তারপর দেখি আমার সন্তানগুলা ইমন, সোয়েব, আরমান, মারুফ, ইয়াছিন, জুনায়েদ সহ আরো অনেকে ফুল আর কেক নিয়ে হাজির তারপর ওদের সাথেও কেক কাটি।

এরপর আমার স্বামী সায়েম প্রধান অফিসে আসে। আমরা কিছু মধ্যবিত্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করে বাসায় চলে যাব। কারণ শরীরটাও ক্লান্ত আবার আম্মু ও বাসার সবাই অপেক্ষা করছে একসাথে ডিনার করবে। এর পরই শুরু হয় আমার উপর অতর্কিত হামলা। তারপর থানা পুলিশ এগুলি করতে করতে রাত তিনটায় আমি আমার স্বামী আমার ভাই বাসায় আসি। বাসায় কিছুই তখনো জানাইনি। আম্মু টেনশন করবে তাই। বাসায় এসে শুনি আম্মু না খেয়েই ঘুমিয়ে গেছে। মনটাই খারাপ হয়ে গেল তখন মনে হচ্ছিল পরিবারকে কি দিতে পারলাম। এইটাই তখন বারবার মনে হচ্ছিলো। ভালো কাজের প্রতিদান এভাবে পেলাম। এরপরের ঘটনা সবারই জানা।

যাই হোক আমার জন্মদিনে যারা আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সবার কাছে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। ভালো কাজ করতে গেলে কিছু লোক হিংসা করবে বাধা দিবে এটাই স্বাভাবিক কিন্তু এরপর নারায়ণগঞ্জ এর সৎ নিষ্ঠাবান সাংবাদিকগন যে ভাবে সত্যটা তুলে ধরে আমাকে সহযোগিতা করেছেন আর আমার এলাকার মা বোনেরা যে ভাবে নামাজ পড়ে আমার জন্য দোয়া করেছে নফল রোজা মানত করে আল্লাহর দরবারে আমার জন্য সহযোগিতা চেয়েছে তখন মনে হয়েছে ভালো কাজ করলে এর প্রতিদান ভালোই পাওয়া যায়। সবাই ভালো থাকুন সুস্থ্য থাকুন এই দোয়া করি।

প্রসঙ্গত, প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর আয়শা আক্তার দিনা নানাভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এই করোনাকালিন সময়ে বিপর্যস্ত মানবতার মাঝে একের পর এক মানবতার উদাহারণ সৃষ্টি করে যাচ্ছেন তিনি। করোনা ভাইরাসের কারণে যখন কেউ কারও সহযোগিতায় এগিয়ে আসছেন না ঠিক তখনই আয়শা আক্তার দিনা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নানা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এসকল ভূমিকার কারণে ইতোমধ্যে তাকে ‘মানবতার মা’ রূপে ভূষিত করা হয়েছে।

দিনার এই জনপ্রিয়তায় অনেকের গাত্রদাহ শুরু হয়ে যায়। ফলশ্রুতিতে গত ১৬ জুন সেই ‘মানবতার মা’ খ্যাত সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর আয়শা আক্তার দিনার উপর হামলার ঘটনা ঘটে। এক ভাড়াটিয়াকে সহযোগিতা করতে গিয়ে তার উপড় হামলা করা হয়। আর এই ঘটনায় উল্টো গত ১৮ জুন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৮ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফ হাসান অর্ণব বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন। মামলায় ২২ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামী করা হয়েছিল এবং প্রধান আসামী করা হয়েছিল কাউন্সিলর আয়শা আক্তার দিনাকে।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও