৬ কার্তিক ১৪২৫, রবিবার ২১ অক্টোবর ২০১৮ , ৫:১৮ অপরাহ্ণ

UMo

আইপিএলে জুয়ার হাতছানিতে ব্যস্ত নগরী


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:১৬ পিএম, ২০ এপ্রিল ২০১৮ শুক্রবার


আইপিএলে জুয়ার হাতছানিতে ব্যস্ত নগরী

জুয়া আর নেশা একই সূত্রে গাথা দুটি ধ্বংসলীলা। একের মাঝে দুইয়ের অদ্ভুত রকমের মিলঝোলের কারণে জুয়ার নেয়ার উন্মাদ জুয়ারীরা শুধু জুয়া খেলার সুযোগ খুঁজে বেড়ান। আর বিপিএল কিংবা আইপিএলের মত স্বল্প সময়ের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলার আসরের শুরুতে সেই জুয়ার নেশা মহামারী আকার ধারণ করে। আর মহামারী জুয়ার নেশার হাতছানিতে তারা নানা প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাতে থাকে।

৭ এপ্রিল থেকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল) টি-টোয়েন্টি খেলার আসর শুরু হয়ে গেছে। দীর্ঘ মাস ব্যাপী এই আসরের খেলাগুলো স্যাটেলাইট কেবলের মাধ্যমে সারাবিশ্বে একযোগে প্রচারিত হবে। আর সেই খেলাকে কেন্দ্র করে জুয়ারীরা জুয়ার নেশায় তারা বিভিন্ন রকম প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। এমনকি খেলা শুরু হওয়ার আগে থেকেই কোটি কোটি টাকার জুয়ার বাজি ইতোমধ্যে ধরা হয়ে গেছে।

ক্রিকেটের এই আসরের শুরুতেই জুয়ারীরা জুয়া খেলার মহোৎসবে মেতে উঠে। এতে করে তার বিভিন্ন রকমের প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। এসব খেলা সরাসরি দেখতে তারা সর্বপ্রথমেই টেলিভিশনের ব্যবস্থা করে থাকে। তাই বিভিন্ন জুয়ারীরা পরিচিত চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন দোকানে টিভি লাগিয়ে জুয়ার রমরমা আসর বসিয়ে জুয়া খেলে থাকে। এছাড়া লোডশেডিংয়ের কারণে বিকল্প হিসেবে মোবাইলে ইন্টারনেটে লাইভ স্কোর দেখার সব রকমের ব্যবস্থা করে থাকে।

জুয়া খেলায় অর্থমূল্যে বাজি ধরার প্রচলন অনেক আগে থেকে শুরু হলেও ক্রিকের খেলায় বাজি ধরে টাকা লাগানোর ব্যাপারটি বিগত কয়েকটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ থেকে সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। পাড়া-মহল্লার প্রায় সব শ্রেণীর মানুষেরা এই জুয়ার নেশায় জড়িয়ে পড়ে। জুয়া নামক নেশার কবলে পড়ে মানুষজন তাদের ঘর-সংসার সব খুয়াচ্ছে। জুয়ার নেশায় মত্ত ব্যক্তি ঘরের সম্পদ বিক্রি করেও বাজিতে টাকা লাগিয়ে থাকে।

জানাগেছে, ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে কয়েক ধরনের ভিন্ন ভিন্ন নিয়মে বাজি খেলা হয়ে থাকে। প্রথমত, ক্রিকেট খেলায় কোন দল জিতবে আর কোনটি হারবে, কোন দল কত রানে বা কত উইকেটে জিতবে বা হারবে, কোন দল কত বল আগে খেলা জিতবে, কোন খেলোয়ার কত রান করবে বা কত উইকেট পাবে, ওভাবে কত রান করবে বা ওভাবে উইকেট পড়বে কিনা, এছাড়া প্রত্যেক বলে বলে কত রান হবে ইত্যাদি নিয়ম অনুযায়ী জুয়া খেলায় বাজি ধরা হয়ে থাকে।

সাধারণত কোন দল জিতবে বা হারবে এ নিয়ে বাজির কথা শুনে আসলেও বর্তমানে কোন দল কত উইকেটে বা কত রানে জিতবে এনিয়েও জুয়াতে টাকা লাগানো হয়। তবে ওভাবে কত রান হবে এবং প্রত্যেক বলের আগে কোন বলে কত রান হবে এ নিয়েও বাজি ধরা হয়। এই সব বাজি সবচেয়ে জুয়ারীদের মধ্যে জুয়ার নেশাকে আরো তীব্রতর করে তুলছে। এছাড়া বাম্পার বাজি নামে আরেক ধরনের বাজির নিয়ম আছে। যেই নিয়মে একজন জুয়ারী অন্যজনকে অফার দেয়  যা জিতলে দ্বিগুণ, তিনগুণ, চারগুণ টাকা পাবে। এক্ষেত্রে যেই জুয়ারী অফারটা দেয় সে যদি জিতে যায় তাহলে তাকে একগুণ হারে টাকা দিতে হবে পরাজিত জুয়ারীকে।

শুধুমাত্র টেলিভিশনের খেলা দেখা লোকেরা জুয়ায় টাকা লাগায় তা কিন্তু না। বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে এনড্রয়েট মোবাইল ফোনে এইটি বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করে ক্রিক বাজে প্রবেশ করে ক্রিকেট খেলার সকল লাইভ স্কোর জানা যায়। তাই যেসব জুয়ারীরা কোন কারণে টেলিভিশনের সামনের বসে জুয়া খেলতে পারে না তারা এসব সফটওয়্যার ব্যবহার করে ফোনে ফোনে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে থাকা আরেক জুয়ারীর সাথে জুয়া ধরে থাকে। এছাড়া অন্যলাইনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, হোয়াট্সঅ্যাপ, ইমো সহ বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে ব্যক্তিগতভাবে জুয়াতে টাকা লাগানো হয়ে থাকে। তাই এখন জুয়া খেলাতে অনেকটা অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। যেকারণে যেকেউ নিজের মন মত জুয়া খেলতে পারবে। আর জুয়া খেলায় ১শ টাকা থেকে শুরু করে লাখ লাখ টাকার বাঁজি ধরা হয়। এর কোন নির্দিষ্ট অংক নেই যেকারণে এর বাজির ভয়াবহতা খুবই খারাপ।

এদিকে জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে অনেক পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। পথে বসেছে অনেক পরিবারে সদস্যরা। আর জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে অনেক অপরাধও সংগঠিত হচ্ছে। বিশেষ করে জুয়ার টাকা লেনদেন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে নানা অঘটন ঘটে থাকে। আর সেই অঘটনে হাতাহাতি থেকে শুরু করে মারামারি, হামলা-মামলায় গিয়ে ঠেকে।

নাম না প্রকাশের শর্তে এক জুয়ারী জানায়, ‘জুয়া খেলে আসলে টাকা উপার্জন করা যায়না। আজকে ৫শ টাকা জুয়ায় জিতলে আগামীকাল ১ হাজার টাকা হেরে যাই। এসব খেলে আসলে টাকা আয় করা যায়না। এটা আসলে এক ধরনের নেশা হয়ে গেছে। তাই জুয়া না খেলেলে ভাল লাগেনা। আর জুয়া খেলে যদি সব টাকাও হেরে যাই তবুও কোন আফসোস থাকে না । কিন্তু যদি জুয়া খেলার টাকা না পাই তাহলে মাথা ঠিক থাকেনা।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, ‘জুয়ারীরা জুয়া খেলতে গিয়ে টাকা না পেলে ঘরের আসবারপত্র বিক্রি করে দেয়। এমনকি চুরি করে সেই টাকা দিয়ে জুয়া খেলে। এছাড়া মায়ের সোনার গহনা চুরি করে বিক্রি করার অসংখ্য ঘটনা রয়েছে। খুব বেশি প্রয়োজনে জুয়ারীরা শরীরের রক্ত বিক্রি করে হলেও জুয়ার টাকা জোগাড় করে থাকে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

খেলাধুলা -এর সর্বশেষ