মধ্য বছর থেকে আলোচনায় ব্রাজিল বাড়ির সমাপ্তি কলংকে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:১৬ পিএম, ৬ জানুয়ারি ২০১৯ রবিবার

মধ্য বছর থেকে আলোচনায় ব্রাজিল বাড়ির সমাপ্তি কলংকে

২০১৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে আলোচনার শীর্ষে ছিল নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বহুল আলোচিত ব্রাজিল বাড়ি। ব্রাজিলের পতাকার রঙ্গে বাড়ি সাজানো আর পুরো বাড়ির অভ্যন্তরীণ ডেকোরেশনে নায়ক বনে গিয়েছিলেন বাড়ির মালিক জয়নাল আবেদীন টুটুল। দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও ছড়িয়েছে ব্রাজিল বাড়ির সুনাম।

২২ জুন মিডিয়ার কল্যাণে আলোচনায় আসা ব্রাজিল বাড়িতে আসেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত জোয়াও তাবাজারা ডি অলিভেরিয়া জুনিয়র। সেখানে তিনি স্থানীয় ভক্তদের নিয়ে ফুটবল ম্যাচও উপভোগ করেছেন। বিজয়ের আনন্দ ভাগ করে নিয়েছেন সমর্থকদের সাথে।

জানা গেছে, ফতুল্লার লালপুর এলাকায় জয়নাল আবেদীন টুটুলের মালিকানাধীন বাড়িটিকে সবাই ব্রাজিল-বাড়ি নামেই চেনেন। ৭ তলা বাড়িটির পুরোটাই অঙ্কিত হয়েছে ব্রাজিলের পতাকার রঙে। বাড়ির ছাদে টানিয়েছিলেন বড় বড় পতাকাও। বাড়ির প্রধান ফটকে লেখা রয়েছে ব্রাজিল বাড়ি। বাড়ির প্রতিটি কোনেই রয়েছে ব্রাজিলের নানা নিদর্শন। ব্রাজিলের একজন ভক্ত হিসেবে নিজের বাড়িটি ব্রাজিলের পতাকার রঙে রাঙিয়ে ব্রাজিলের হাইকমিশনের দৃষ্টিতে চলে আসেন টুটুল।

ব্রাজিলের প্রতি ভালোবাসার সুবাদে পেয়ে যান তিনি রাশিয়ার মাঠে ব্রাজিলের খেলা দেখার ফ্যান কার্ড। ১৩ জুন বিশ্বকাপ খেলা দেখতে রাশিয়ায় যান টুটুল। প্রিয় দল ব্রাজিলের খেলা দেখতে রাশিয়ার মাঠে বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন তিনি। ১৯জুন তিনি দেশে ফিরেন। ‘ফ্যান কার্ড’ হাতে নিয়ে রাশিয়ার মাঠে ব্রাজিলের লোকজনদের কাছে পেয়ে অভিভূত হন তিনি।

তবে সেই টুটুলকে নিয়ে এখন মানুষের সমালোচনাও বেশী। তেল চুরি করে কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া টুটুলকে এখন ধিক্কার জানাতে শুরু করেছে এলাকার মানুষ। ২৭ জুলাই ব্রাজিল বাড়ি নিয়ে বেসরকারী টিভি স্টেশন চ্যানেল ২৪ এ সংবাদ প্রচারের পর থেকে শুরু হয়েছে নানা ধরনের সমালোচনা আলোচনা।

তারা বলছেন, ব্রাজিলকে হাইলাইট করতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনেছিলেন টুটুল। কিন্তু এখন তার সম্পর্কে তেল চুরির কাহিনী শুনে নিজেদের কাছেই লজ্জাবোধ হচ্ছে। টুটুল কার্যত নারায়ণগঞ্জবাসীর ইজ্জত হরণ করেছে। ক্যান্টিনের ওয়াশবয় থেকে এভাবে কোটিপতি বনে যাওয়াটাও এখন ওপেন সিক্রেট।

তার বাবার মৃত্যুর পর যমুনা অয়েল কোম্পানীতে চাকরি পায় টুটুল। নো ওয়ার্ক নো পে পদ্ধতিতে যমুনা অয়েল কোম্পানীর ক্যান্টিনে দৈনিক ৫৫ টাকায় বেতন ছিল টুটুলের। সেখানে মূলত সে পে¬ট ধৌত করতো। পরবর্তীতে যমুনা অয়েল কোম্পনীর নিয়ন্ত্রণ করা তিনজন কর্মকর্তা ও দুইজন সিবিএ নেতার কল্যাণে টুটুল বাগিয়ে নেন অপারেটরের পদ। ভাগ্য খুলে যায় তার। কারণ প্রতিদিন বিভিন্ন তেলবাহী গাড়িতে তেল চুরির মূল হোতা হল ওই অপারেটর। এক পর্যায়ে চাকরি নেন গ্রেজারের। গ্রেজার মূলত বড় বড় তেল মাপায় জড়িত।

সার্চলাইট শীর্ষক অনুষ্ঠানে এও বলা হয়, মূলত তেল চুরির টাকা দিয়ে ফতুল¬ার লালপুরে আলিশান ব্রাজিল বাড়ি গড়ে তুলেন টুটুল। যার পরতে পরতে রয়েছে আভিজাত্যের ছাপ। তবে টুটুলের দাবী তিনি আত্মীয় স্বজন ও পারিবারিক সূত্র ধরেই টাকা-পয়সার মালিক হয়েছেন, বাড়ি করেছেন। তিনি জানান, গ্রামের স্কুলে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেনিতে এবং নারায়ণগঞ্জে ৫ম ও ৬ষ্ঠ লেখাপড়ার কথা বলে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান। তবে বিপুল অর্থ-বিত্ত ও ব্রাজিল বাড়ি নির্মাণের বিষয়ে বলেন, বাবার পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমি বিক্রি, বোনদের সহায়তা, ব্যাংক লোন নিয়ে এই বাড়ি করেছেন।


বিভাগ : খেলাধুলা


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও