জলাবদ্ধতায় হুমকির মুখে খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের ভবিষ্যৎ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১৭ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার

জলাবদ্ধতায় হুমকির মুখে খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের ভবিষ্যৎ

ঢাকার সন্নিকটে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের পাশে ফতুল্লায় অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ জেলার একমাত্র আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম হচ্ছে খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম। মাঠের চারিদিকে জলাবদ্ধতা আর জলজ উদ্ভিদ দেখে মনে হয় স্টেডিয়ামটি জেনো একটুকরো দ্বীপ। চারদিকে পানিতে থৈথৈ। বৃষ্টি আর ডিএনডির কৃত্রিম পানিতে নষ্ট হচ্ছে মাঠ। এতে করে হুমকির মুখে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক এই ক্রিকেট ভেন্যুর ভবিষ্যৎ।

মঙ্গলবার ২৪ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে দেখা যায় স্টেডিয়ামটির ভয়াবহ চিত্র। স্টেডিয়ামের লিংক রোড সংলগ্ন গেইট দিয়ে প্রবেশের শুরুতেই দেখা যায় ময়লার স্তুূপ। লিংক রোড ও স্টেডিয়ামের মাঝে থাকা পানি নিষ্কাশনের ক্যানেলটি ময়লার বাগাড়ে পরিণত হয়েছে। স্টেডিয়ামের কমেন্ট্রি বক্স ও অন্যান্য স্থাপনার গ্লাসগুলো ভাঙ্গাচোরা। গ্যালারির দর্শকদের রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচানোর ছাউনি কবে ভেঙ্গে গেছে তা হয়তো ভুলে গেছে কর্তৃপক্ষ। পরিবেশ এমন যে বাইরে থেকে ভেতরে প্রবেশ করার সময় যে কারো কাছে মনে হবে এটি একটি পরিত্যাক্ত জায়গা।

বাইরের প্র্যাকটেস করার জায়গার অবস্থা আরো খারাপ। বৃষ্টির পানি ও ডিএনডি খালের মাধ্যমে বিভিন্ন শিল্প কারখানার কেমিক্যাল মিশ্রিত পানিতে এই জায়গা এখন ডোবা-নালায় পরিনত হয়েছে। গেইট পার করে স্টেডিয়ামে যেতে পায়ে হাটার ৩মিনিটের পথ পুরোটাই পানির নিচে। রাস্তার পাশে থাকা ড্রেন থেকে মানুষের কাঁচা মল এই রাস্তার উপর ভেসে বেড়াচ্ছে। বছরের পর বছর এভাবেই আটকে আছে পানি। এতে করে চরম দুর্গন্ধ তৈরী হয়েছে। আর জমে থাকা পানি এখন নানা পোকামাকড় আর মশার আতুর ঘরে পরিনত হয়েছে। ফলে নারায়ণগঞ্জবাসীর স্বপ্নের স্টেডিয়ামটি হারাচ্ছে আন্তর্জাতিক ভেন্যুর মর্যাদা।

জানা গেছে, ২৫হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামটি ২০০৬ সালের ২৩ মার্চ বাংলাদেশ বনাম কেনিয়ার আন্তর্জাতিক ওডিআই ম্যাচের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। একই বছরের ২৮ এপ্রিল বাংলাদেশ বনার ভারতের একটি ওডিআই ম্যাচের মাধ্যমে শেষ হয় এর আন্তর্জাতিক ওডিআই ইতিহাস। ২০০৬ সালের ৯-১৩ এপ্রিল বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার টেস্ট ম্যাচের মাধ্যমে শুরু হয় টেস্টের ইতিহাস। ২০১৫ সালের ১০-১৪ জুন বাংলাদেশ বনাম ইন্ডিয়ার টেস্ট খেলার মাধ্যমে শেষ হয় এই স্টেডিয়ামের টেস্ট ম্যাচের ইতিহাস। মাঠটিতে এখনো পর্যন্ত আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ম্যাচ মাঠে গড়ায়নি।

বর্তমানে মাঠটিতে দুই একটি ক্লাবের খেলা ও বিভিন্ন টুর্নামেন্টের খেলা ছাড়া আর কোনো খেলা অনুষ্ঠিত হয় না। নিয়মিত আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত না হওয়ায় মাঠটির নেই কোনো দেখভাল। অবহেলায় পরে থাকতে থাকতে এখন মাঠটি পুরোপুরি আন্তর্জাতিক ম্যাচের অনুপযোগী হয়ে পরেছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে হয়তো একসময় মাঠটি একেবার ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যাবে।

স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, মাঠডিট নির্মাণের সময় বড় ধরণের ভূল করা হয়েছে। মাঠের জায়গাটি একসময় জলা ছিল। ডিএনডির ভয়ংকর জলাবদ্ধতার মধ্যে এডটি পরেছে। নির্মাণের সময় আশে পাশে বসতবাড়ি বেশি না থাকলেও এখন বসতবাড়ি পাশাপাশি নির্মাণ করা হয়েছে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান। ফলে অন্যান্য জায়গা থেকে জায়গাটি নিচু হয়ে হেছে। এমতাবস্থায় যে ক্যানেল দিয়ে এই মাঠের পানি নিষ্কাশন হওয়ার কথা এখন সেই খাল দিয়েই বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে স্টেডিয়াম ও এর আশপাশের এলাকা।

এলাকাবাসীর দাবি যাতে দ্রুত স্টেডিয়ামের পাশে থাকা ময়লা অপসারণ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়। এবং নিয়মিত আন্তর্জাতিক ম্যাচের আয়োজন করা হয়।

এ প্রসঙ্গে কথা বলার জন্য স্টেডিয়ামটিতে কর্তব্যরত কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি।


বিভাগ : খেলাধুলা


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও