পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার চঞ্চল

সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১৪ পিএম, ৬ ডিসেম্বর ২০১৭ বুধবার



পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার চঞ্চল

‘চঞ্চলের হত্যাকাণ্ড নিছক হত্যাকাণ্ড নয়। এটা ছিল পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। যা অপহরণ এবং গুম করা হয়। পরে তাকে হত্যা করা হয় এবং লাশ লুকানোর জন্য শীতলক্ষ্যায় ফেলা হয়। লাশ না যাতে পানিতে ভেসে না উঠে তার জন্য পেট কেটে দেয়া হয়। এ হত্যাকাণ্ডে যাদের আসামী করা হয় পুলিশ তাদের আটক করতে পারেনি। এমনকি এই হত্যার মোটিভ উদ্ধার করতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেয়। এর জন্য সম্পূর্ণ দায় পুলিশের নিতে হবে। তবে আমরা বিচারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখা হবে।’

মঙ্গলবার ৫ ডিসেম্বর নিউজ নারায়ণগঞ্জের সংবাদ বিশ্লেষণ নিয়ে বিশেষ আয়োজন ‘টক অব দ্যা নারায়ণগঞ্জ’ এর আলোচনায় এ মন্তব্য করেন নিহত নাট্যকার চঞ্চলের বড় ভাই যোবায়ের ইসলাম পমেল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন সংবাদিক তানভীর হোসেন।

নারায়ণগঞ্জে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন সংবাদ বিশ্লেষনে চঞ্চলের বড় ভাই যোবায়ের বলেন, চঞ্চলের হত্যাকাণ্ডের যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে তা আজীবন বয়ে বেড়াবো। তার কথা কখনো ভুলার নয়। তার বন্ধুরা এখনো খবর নেয়। প্রতিবাদে পাশে এসে দাঁড়ায়। তবে এই দবিতে সবাই ঐক্যবদ্ধ হলেও হতাশা গ্রাস করে নিচ্ছে। এই হতাশার জন্য আমরা দায়ি করবো নারায়ণগঞ্জের প্রশাসনকে। চঞ্চলকে যারা বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায় তাদের ধরার জন্য বারবার দাবি জানালেও পুলিশ ছিল নিরব।

যোবায়ের বলেন, পুলিশ আমাদের না জানিয়ে চার্জশিট জমা দেয় যা ফোনে আমাদের জানানো হয়। আমরা সেই চার্জশিটের বিরুদ্ধাচারণ করি।

বড় ভাই যোবায়ের বলেন, চঞ্চল চলে যাওয়ার পর দেখা যাচ্ছে তার প্রতি মানুষের ভালবাসা। কী পরিমান সহানুভতি। সকলের কাছে কৃতজ্ঞ চঞ্চলের পরিবার।

ক্ষণজন্মা এই নাট্যকার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ‘শত মানুষের হাজার স্বপ্ন’, ‘হাড় তরঙ্গ’ এবং ‘বক্তাবলী’ নামে তিনটি নাটক রচনা করে। নিখোঁজ হওয়ার মাত্র তিন দিন আগে ২০১২ সালের ১৩ জুলাই মুক্তিযুদ্ধের ৪০ বছর উপলক্ষে ঢাকা শিল্পকলা একাডেমিতে যে ১০০টি মুক্তিযুদ্ধের নাটক মঞ্চস্থ হয় তার মধ্যে চঞ্চলের রচিত ‘বক্তাবলী’ নাটকটিও মঞ্চস্থ হয়। ওই নাটকের জন্য শ্রেষ্ঠ নাট্যকার হিসেবে পুরস্কৃত করা হয় তাকে। ২০১২ সালের ১৬ জুলাই গভীর রাতে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় চঞ্চল। ওই রাত ৩টায় চঞ্চল, তার বন্ধু মীম প্রধান, রাকিব ও শফিক একত্রে নগরীর ২নং রেলগেট এলাকার একটি দোকানে চা-নাশতা খেয়েছিল। নিহত চঞ্চলের মোবাইলে রাত ৩টা ৯ মিনিটে সর্বশেষ কল করেছিল মীম প্রধানের আত্মীয় মেহেদী হাসান রোহিত। সে মীমের সঙ্গে তাকে দেখা করতে বলে। এরপর থেকে চঞ্চল নিখোঁজ হয়।

পরে ১৮ জুলাই শীতলক্ষ্যা নদীতে বন্দর উপজেলার শান্তিনগর এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে চঞ্চলের লাশ উদ্ধার করে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করে ফেলে পুলিশ। খবর পেয়ে ১৯ জুলাই লাশের ছবি ও পরিধেয় কাপড় দেখে উদ্ধার করা লাশটি চঞ্চলের বলে শনাক্ত করে নিহতের বড় ভাই জোবায়ের ইসলাম পমেল। প্রথমে পুুলিশ এ মামলাটির তদন্ত কাজ শুরু করলেও উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি না হওয়ায় তদন্তভার পরবর্তীতে ডিবিতে অর্পন করা হয়।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

এই বিভাগের আরও