নির্বাচন রাজনীতি নিয়ে আলোচনায় চেঙ্গিস ও এটিএম কামাল (ভিডিও)

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১৩ পিএম, ২৭ নভেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার



নির্বাচন রাজনীতি নিয়ে আলোচনায় চেঙ্গিস ও এটিএম কামাল (ভিডিও)

নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষকলীগের সেক্রেটারী ইব্রাহিম চেঙ্গিস বলেছেন, আওয়ামী লীগ এর নেতৃত্বে যে মহাজোট হয়েছে আসন ভাগাভাগিতে অবশ্যই অন্যান্য দলকে সুযোগ দিতে হবে। কিছু পেতে হলে কিছু ছাড় দিতে হবে। এর জন্য জাতীয় পার্টির প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এখন যে ভেদাভেদ দেখা যাচ্ছে সময় হলে সবাই এক জোট হয়েই মহাজোটে কাজ করবে।

একই অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপির সেক্রেটারী এটিএম কামাল বলেছেন, গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে বিএনপি নিবার্চনে এসেছে। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গনতন্ত্র পুণরুদ্ধারে এবারের নির্বাচন। এই নির্বাচনে প্রার্থী মুখ্য নয়, ধানের শীষ মুখ্য। এবারের আন্দোলন মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার আন্দোলন। মানুষকে তার ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে আন্দোলন। এ আন্দোলনে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবে। জনপ্রতিনিধি হিসেবে অনেক বিএনপি নেতা সংসদ সদস্যের সভায় যোগ দিয়ে থাকেন। নির্বাচনের বিষয়ে এসব জনপ্রতিনিধিরা দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবে। যদি কেউ এর ব্যত্যয় ঘটায় এর দায় তাকেই নিতে হবে।

২৬ নভেম্বর সোমবার রাতে নারায়ণগঞ্জে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে নিউজ নারায়ণগঞ্জের বিশেষ লাইভ টক শো ‘নারায়ণগঞ্জ কথন’ এ আলোচক হিসেবে একথা বলেন তারা। নারায়ণগঞ্জ কথনের ৫২ তম পর্বে বিষয় ছিল ভোটের লড়াই।

আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা কৃষকলীগের সেক্রেটারী ইব্রাহিম চেঙ্গিস ও মহানগর বিএনপির সেক্রেটারী এটিএম কামাল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন তানভীর হোসেন।

জেলা কৃষকলীগের সেক্রেটারী ইব্রাহিম চেঙ্গিস বলেন, এক সময় স্বচ্ছতা ছিল রাজনীতিতে। এখন কিছুটা ত্রুটি হচ্ছে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ এই ত্রুটিতে জড়িয়ে পড়ছে। ব্যালটে সিল মারার দিন শেষ এখন জনগণ এর ইচ্ছার ফলে ফলাফল। কেউ বেশি, কেউ কম। ক্ষমতার ব্যবহার অন্যরকম। বিএনপি কম করেনি তার প্রমান পত্রিকায় আছে, আমার কাছেও আছে।

তিনি বলেন, সরকারী রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহারের কথা বলছেন, অথচ ২০০১ এর কথা ভুলে  গেছেন। সরকারের কাজতো নির্বাচন নয়, নির্বাচন কমিশন এর কাজ নির্বাচন করা। অযথা দোষারোপ করে বিএনপি সুবিধা নিবেন এতে আমরাও বসে থাকবো না। এই দল (আওয়ামী লীগ) ছেড়ে দেয়ার দল নয়।

মহানগর বিএনপির সেক্রেটারী এটিএম কামাল বলেন, সর্বাঙ্গে ব্যাথা ওষুধ দিব কোথা। বর্তমানে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী কারাগারে আছেন। অনেকে হাইকোর্টসহ জজকোর্টের বারান্দায় দিন কাটাচ্ছেন।

আবার মাঠে-ময়দানে কেউ একত্র হলেই আটক করা হচ্ছে। এর জন্য বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন দায়ি। তাদের ভূমিকা এখন পর্যন্ত নিরপেক্ষ নয় বলে মন্তব্য করেন কামাল।

আচরণ বিধি লঙ্ঘন বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা একত্র হলেই দোষ। আর বিপরীত প্রার্থীরা উঠান বৈঠক এর নামে শো’ডাউন করছে তাদের কেউ কিছুই বলছে না। আর আমরা ভোট চাইবো কোথায়? খালেদার মুক্তির জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি। ভোটাধিকার প্রয়োগে যাতে মানুষ উদ্বুদ্ধ হয়, তার জন্য কাজ করছি।

মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যাদের রাজপথে ভূমিকা ছিল তারাই মনোনয়ন পাবেন। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির প্রতি এই অবস্থান কেন্দ্রের রয়েছে।

নিজের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কামাল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সোনরগা নাগরিক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। গত দুই যুগ ধরে সোনারগাঁয়ের সমস্যা নিয়ে কাজ করছি। মাটি ও মানুষের মাঝে আছি থাকবো।

আচরণবিধি প্রসঙ্গে জেলা কৃষকলীগের সেক্রেটারী ইব্রাহিম চেঙ্গিস বলেন, মানুষের আগ্রহের কারণেই শামীম ওসমানের প্রতি মানুষ এগিয়ে গিয়ে জমায়েত হচ্ছেন। এটা কোন ভাবেই আচরন বিধির মধ্যে ফেলতে পারবে না।

তিনি বলেন, শামীম ওসমানের গুণ বলে শেষ করা যাবে না। তিনি যে উন্নয়ন ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জে ঘটিয়েছেন, তাকে কেউ ছাড়িয়ে যেতে পারবে না। সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার কাজ করেছেন এক মেয়াদে। তিনি মানুষকে ভালবাসেন।

সেলিম ওসমান প্রসঙ্গে বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে যে উন্নয়ন সেলিম ওসমান বন্দরে করেছেন তা দেখার মত। তার মত ১৫০ জন সংসদ সদস্য দেশে থাকলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে এতো সময় লাগতো না। তিনি বঙ্গবন্ধু এবং তার কন্যাকে অসম্ভব ভালবাসেন। তার বিকল্প বন্দরে কোন প্রার্থী নাই বলে মন্তব্য করেন তিনি। চেঙ্গিস বলেন, নির্বাচনের সময় কোন ভেদাভেদ থাকবে না। মহাজোটের পক্ষে কাজ করতে আওয়ামী লীগের কোন নেতাকর্মীর দ্বিধা নাই। আমাদের জোট বিজয়ী হবে।

আর বিএনপির নেতাকর্মীদের আটক হওয়া প্রসঙ্গে বলেন, আগে থেকে যাদের মামলা আছে তাদের পুলিশ আটক করছে। এটা স্বাভাবিক ঘটনা বলে মন্তব্য করেন তিনি।


বিভাগ : টক শো


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

এই বিভাগের আরও